১৩ই জুন, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

পশ্চিমবঙ্গে বন্ধ ৮ হাজার স্কুল, বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থার চিত্র প্রভাব ফেলবে ভোটে?

ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে। সমস্ত দল এখন প্রচারের ময়দানে ব্যস্ত। কিন্তু রাজনৈতিক বাকযুদ্ধের মাঝেও এক ইস্যু বারবার উঠে আসছে— রাজ্যর শিক্ষাব্যবস্থা। গত বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঘিরে বিতর্ক, অভিযোগ আর উদ্বেগ ক্রমশ বেড়েই চলেছে। দুর্নীতির অভিযোগের পাশাপাশি এবার সামনে এসেছে আরও ভয়াবহ চিত্র— একের পর এক সরকারি স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা।

সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, রাজ্যে ৮ হাজারেরও বেশি স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। কেন এই পরিস্থিতি? বিরোধীদের অভিযোগ, এর মূল কারণ দুটি— দুর্বল পরিকাঠামো এবং ভয়াবহ শিক্ষক সঙ্কট। এই প্রশ্ন ইতিমধ্যেই বিধানসভায় একাধিকবার তুলেছে বিরোধী শিবির।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, কলকাতার তুলনায় জেলার স্কুলগুলোর অবস্থা অনেকটাই খারাপ। শহরে শিক্ষক সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হলেও, জেলায় বহু স্কুলে শিক্ষক নেই বললেই চলে। অথচ এই সরকারি স্কুলগুলিতেই মূলত প্রান্তিক পরিবারের পড়ুয়ারা পড়াশোনা করে। ফলে শিক্ষার সুযোগ থেকেই বঞ্চিত হচ্ছে বৃহৎ একটি অংশ।

পরিসংখ্যান আরও বলছে, জেলার তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ বেশি শিক্ষক রয়েছেন কলকাতায়, অথচ ছাত্রসংখ্যা সেখানে অর্ধেকেরও কম। এই বৈষম্যের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ‘উৎসশ্রী’ প্রকল্প। শিক্ষক বদলির এই ব্যবস্থার ফলে বহু শিক্ষক জেলা থেকে শহরে চলে এসেছেন। ফলে গ্রামীণ স্কুলগুলো ক্রমশ শিক্ষকশূন্য হয়ে পড়েছে, কমেছে পড়ুয়ার সংখ্যা, আর শেষমেশ বন্ধ হয়ে গেছে বহু স্কুল।

প্রশাসনের অন্দরমহলের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে মোট স্কুলের সংখ্যা প্রায় ৯৩ হাজার ৭১৫। তুলনায় রাজস্থানে রয়েছে ১ লক্ষ ৬ হাজারের বেশি এবং উত্তরপ্রদেশে ২ লক্ষ ৬২ হাজারেরও বেশি স্কুল। অথচ শিক্ষক সংখ্যার নিরিখে বাংলাই পিছিয়ে। রাজস্থানে যেখানে প্রতি স্কুলে গড়ে ৬ জনের বেশি শিক্ষক রয়েছেন, বাংলায় সেই সংখ্যা ৫ জনেরও কম।

শিক্ষামন্ত্রী স্বীকার করেছেন শিক্ষক সঙ্কটের কথা। সরকারের দাবি, সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। নির্বাচনের মুখে এই ইস্যুকেই হাতিয়ার করেছেন বিরোধী প্রার্থীরা।

সাংবাদিকদের জন্য বড় ঘোষণা বিজেপির: ক্ষমতায় এলে পাওয়া যাবে মাসিক ৫০০০ টাকা ভাতা ও ফ্রি ট্রেন সফর

ভোটমুখী বাংলায় এবার সাংবাদিকদের মন জয়ে বড় ঘোষণা করল ভারতীয় জনতা পার্টি। শনিবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে দাঁড়িয়ে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিলেন বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট জানান, বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যের যোগ্য সাংবাদিকদের মাসিক ৫,০০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, সাংবাদিকদের জন্য ট্রেন সফর পুরোপুরি বিনামূল্যে করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

‘আমরা-ওরা’ বিভেদ নয়

এদিন শমীক ভট্টাচার্য জোর দিয়ে বলেন যে, এই প্রকল্পে কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব করা হবে না। তাঁর কথায়, “এখানে ‘আমরা বনাম ওরা’ বলে কিছু থাকবে না। যোগ্যতার ভিত্তিতে সমস্ত সাংবাদিকই এই সুবিধা পাবেন। সাংবাদিকরা যাতে নির্ভয়ে এবং নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।”

তৃণমূল সরকারকে কড়া আক্রমণ

প্রথম দফার ভোটের মাত্র কয়েক দিন আগে এই সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেন শমীক। বাম আমল থেকে বর্তমান তৃণমূল জমানার তুলনা টেনে তিনি বলেন:

দুর্নীতির অভিযোগ: শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে মাদ্রাসা—সব জায়গাতেই দুর্নীতি ঢুকে পড়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি: শমীকের দাবি, তৃণমূল ক্ষমতায় আসার সময় রাজ্যের ঋণ ছিল ১.৯২ লক্ষ কোটি টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকায়।

কৃষি ও শিল্প: আলু ও চাল উৎপাদন থেকে শুরু করে বিনিয়োগের অভাব—সব ক্ষেত্রেই রাজ্য পিছিয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। উত্তরপ্রদেশ বা ওড়িশার মতো রাজ্যে যেভাবে বিনিয়োগ আসছে, বাংলায় তা হচ্ছে না বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেন।

 সংকল্প পত্রে বিশেষ জোর

বিজেপির ‘সংকল্প পত্র’ বা নির্বাচনী ইস্তাহারের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়াই তাঁদের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে মহিলাদের সুরক্ষা ও নতুন কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি আবারও মনে করিয়ে দেন তিনি। আগামী ২৩ এপ্রিল রাজ্যে প্রথম দফার ভোট। তার আগে সাংবাদিকদের জন্য এই ভাতা এবং বিনামূল্যে ট্রেন সফরের ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ইডেন মাতাতে আসছেন বৈভব: বিস্ময় কিশোরকে ঘিরে বিতর্ক ও উৎফুল্লতাও

বৈভব আছেন বিতর্কতেও

বিহারের সমস্তিপুর থেকে কলকাতার ইডেন গার্ডেন – এক দীর্ঘ পথ। সেই পথকেই ছোট করে দিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেটের ওয়ান্ডার বয়। যাকে ঘিরে একদিকে বিতর্ক এবং উৎফুল্লতা পাশাপাশি হাঁটছে। রবিবার বিকেলে কলকাতা নাইট রাইডার্স ও রাজস্থান রয়্যালসের মধ্যে টানটান ম্যাচ। শাহরুখ খানের কলকাতা দল আগের তিনটি ম্যাচে হেরে হারের হ্যাট্রিক সেরে ফেলেছে। একটা ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ার কারণে রাহানের দল এক পয়েন্ট পেয়েছে।

বাবা মা থাকবেন ইডেনে

আবারও কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে রবিবার। যেখানে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে ওপেন করতে নামবেন ১৫ বছরের বিস্ময় প্রতিভা বৈভব সূর্যবংশী। যার বাবা মা এদিন ইডেনে ছেলের খেলা দেখতে গ্যালারিতে হাজির থাকবেন।

প্রতিভা চিনেছিলেন দ্রাবিড়

একটা সময় অনূর্ধ্ব ১৯ দলের হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিলেন বৈভব। সেইসময় ভারতের যুব দলের কোচ ছিলেন রাহুল দ্রাবিড়। তিনি শুরু থেকেই বলে এসেছেন, বৈভব অসম্ভব প্রতিভাবান। শুধু তাই নয়, এই কিশোর বাঁহাতি ব্যাটার বড় বড় বোলারদের বিরুদ্ধে ব্যাটিং করার সময় একেবারে অকুতোভয়। যিনি এই বয়েসে মনে করেন, মারলে বিপক্ষের সেরা বোলারকে টার্গেট করো। দেখবে বাকিরা কেমন চুপসে যাবে। সেটাই করে আসছেন বৈভব গত মরশুম থেকেই। গতবার এই রাজস্থান রয়্যালসের হয়েই ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করে নজর কাড়েন। তারপর শুধু অবাক করে গিয়েছেন আপামর ক্রিকেট প্রেমীদের।

বুমরাদেরও পিটছেন বৈভব: বিতর্ক

২০১১ সালের ২৭ মার্চ বিহারে জন্ম সূর্যবংশীর। মাত্র ১৫ বছর বয়সী এই কিশোর যেভাবে ব্যাটিং করছেন তাতে মনে হচ্ছে ব্যাটিং কত সহজ। এবারই যশপ্রিত বুমরা এবং হ্যাজলউডদের যা মেরেছেন তাতে প্রশ্ন উঠছে সত্যিই কি বৈভবের বয়স ১৫?

আইপিএল এর ব্রেন চাইল্ড যার সেই ললিত মোদী লন্ডন থেকে জানিয়েছেন, অবিলম্বে বৈভবের বার্থ সার্টিফিকেট পরীক্ষা করা হোক। পেশিতে যার এত জোর সে কখনই ১৫ বছরের হতে পারে না। একটা সময় শচীন তেন্ডুলকর ১৬ বছর বয়সে ইমরান, আক্রাম, ইউনিসদের বেধড়ক পিটিয়েছেন, তখন কেউ প্রশ্ন তোলেনি। কিন্তু বৈভব যেহেতু বিহারের এক জেলা থেকে উঠে এসেছেন তাই তাঁর প্রতিভা নিয়ে সংশয়ে অনেকেই। বলা হয়েছে তিনি নাকি বয়স ভাঁড়িয়ে খেলতে নেমেছেন।

বৈভবের পাশে সাঙ্গাকারা

রাজস্থান রয়্যালসের কোচ কুমার সাঙ্গাকারা অবশ্য এইসব বিষয়কে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তিনি বরং বলছেন, বৈভব যদি কোনও ম্যাচে ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করতে পারে তাহলে সে কোনও ম্যাচে শূন্য রানে আউটও হতে পারে। তাই আমি চাই মাঠের বাইরের বিষয়কে গুরুত্ব না দিয়ে বৈভব কলকাতা ম্যাচেও দাপটে ব্যাটিং করুন।

১১ বছরে অভিষেক

মাত্র ১১ বছরে নিজের ঘরোয়া ক্রিকেটে অভিষেক হয় এই মারকুটে ওপেনারের। ১৪ বছর বয়সে আইপিএল ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে অভিষেক হয় তাঁর। এবার সর্ব কনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট খেলার অপেক্ষায় বিহারের ছেলে। সেরকম হলে তিনি শচীনের কম বয়সে টেস্ট খেলার রেকর্ডও গুঁড়িয়ে দেবেন আশা করা যাচ্ছে।

চুপিসারে নামছে রক্তচাপ ! অবহেলা করলেই বিপদ,  জানুন লো প্রেসারের লক্ষণ ও করণীয়

উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশার নিয়ে যত আলোচনা হয়, নিম্ন রক্তচাপ বা লো ব্লাড প্রেশার নিয়ে ততটা নয়। অথচ দুটোই সমান ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। শরীর ঠিকঠাক থাকলেও হঠাৎ মাথা ঘোরা, চোখে ঝাপসা দেখা বা দুর্বলতা৷ তা সত্ত্বেও অনেকেই গুরুত্ব দেন না। অথচ এই উপসর্গগুলিই হতে পারে ‘লো ব্লাড প্রেসার’ এর ইঙ্গিত। রক্তচাপ যদি ৯০/৬০ mm of Hg-এর নিচে নেমে যায়, তা হলে সেটিকে নিম্ন রক্তচাপ বা লো প্রেসার বলা হয়। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি মারাত্মক হতে পারে।

কী কী লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন?

লো প্রেসার অনেক সময় নিঃশব্দে শরীরে প্রভাব ফেলে। তবে কিছু সাধারণ উপসর্গ রয়েছে—

  • মাথা ঝিমঝিম বা ঘোরা
  • চোখে ঝাপসা দেখা
  • হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া
  • অস্বাভাবিক দুর্বলতা
  • হঠাৎ দাঁড়ালে মাথা ঘুরে যাওয়া

সতর্কবার্তা: দীর্ঘদিন ধরে রক্তচাপ কম থাকলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলিতে রক্ত সরবরাহ কমে যেতে পারে। ফলে ‘শক’, অঙ্গ বিকল হওয়া বা মস্তিষ্কের ক্ষতির মতো গুরুতর সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

কেন হয় লো প্রেসার?

নানা কারণে রক্তচাপ হঠাৎ কমে যেতে পারে—

  • খাওয়ার পর রক্তচাপ কমে যাওয়া (Postprandial hypotension)
  • হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে চাপ কমে যাওয়া (Orthostatic hypotension)
  • শরীরে জলের অভাব
  • অতিরিক্ত বমি বা ডায়রিয়া
  • কিছু ওষুধের (বিশেষত হাই প্রেসারের ওষুধ বা ডাইইউরেটিক) ভুল মাত্রা

কী করবেন?

লো প্রেসারকে অবহেলা না করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি—

  • পর্যাপ্ত জল পান করুন
  • মাথা ঘুরলে রোগীকে শুইয়ে পা সামান্য উঁচু করে দিন
  • দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
  • প্রয়োজন হলে ‘কম্প্রেশন স্টকিংস’ ব্যবহার করা যেতে পারে

রক্তচাপ কমে যাওয়া অনেক সময় ‘সামান্য দুর্বলতা’ ভেবে এড়িয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তা যে বড় বিপদের সংকেত হতে পারে, তা ভুলে গেলে চলবে না। শরীরের এই ছোট ছোট সতর্কবার্তাই বড় রোগের আগাম ইঙ্গিত— তাই সচেতন থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।

মহাকাশ গবেষণার প্রযুক্তি কি সস্তায় বিকোচ্ছে বেসরকারি হাতে? সংসদীয় কমিটির রিপোর্টে চাঞ্চল্য

ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর (ISRO) তৈরি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি বেসরকারি সংস্থাগুলিকে নামমাত্র মূল্যে হস্তান্তর করা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করল সংসদের স্থায়ী কমিটি। সম্প্রতি প্রকাশিত ৪১০ নম্বর রিপোর্টে কমিটি জানিয়েছে, বহু ক্ষেত্রে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি মাত্র ৬ হাজার টাকা বা তারও কম মূল্যে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে কোনও ফি-ই নেওয়া হয়নি।

বিজেপি সাংসদ ভুবনেশ্বর কলিতার নেতৃত্বাধীন এই কমিটি ‘ডিপার্টমেন্ট অফ স্পেস’-এর অনুদান সংক্রান্ত পর্যালোচনায় জানিয়েছে, প্রযুক্তির বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বিচার না করেই এমন ‘সস্তা’ দর নির্ধারণ করা হচ্ছে। এর ফলে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের উদ্ভাবনের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অথচ বেসরকারি সংস্থাগুলি সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিপুল মুনাফা লুটছে।

তদন্ত ও তৃতীয় পক্ষ দ্বারা অডিট:

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মৎস্যজীবীদের জন্য তৈরি ‘ডিস্ট্রেস অ্যালার্ট ট্রান্সমিটার’ (DAT) প্রযুক্তিটি জনস্বার্থের কথা মাথায় রেখে সস্তায় দেওয়া হয়েছিল। তবে কমিটির পাল্টা যুক্তি, এই কম দামের সুবিধা সাধারণ ব্যবহারকারীরা আদেও পাচ্ছেন কি না, তা যাচাই করার কোনও বিশ্বাসযোগ্য ব্যবস্থা নেই। কমিটির স্পষ্ট সুপারিশ— এখন থেকে মহাকাশ প্রযুক্তির দাম বাজারদর অনুযায়ী ঠিক করতে হবে এবং প্রতিটি প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তির স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তৃতীয় পক্ষ (Third-party) দিয়ে নিয়মিত অডিট করাতে হবে।

ধীরগতিতে চলছে চন্দ্রযান-৪ ও ৫-এর কাজ:

প্রযুক্তি হস্তান্তর ছাড়াও মহাকাশ অভিযানের জন্য বরাদ্দ অর্থ খরচ না হওয়া নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছে কমিটি। রিপোর্টে বলা হয়েছে:

চন্দ্রযান-৪: ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও খরচ হয়েছে মাত্র ৩৪.৬০ কোটি টাকা।
চন্দ্রযান-৫: বরাদ্দ ১৪ কোটি টাকার বিপরীতে খরচ হয়েছে মাত্র ০.৫৮ কোটি টাকা।
শুক্র অভিযান (Venus Orbiter): এই মিশনের অবস্থা আরও শোচনীয়। বরাদ্দ ২৯.৫০ কোটি টাকার মধ্যে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত খরচ হয়েছে মাত্র ৫.১২ কোটি টাকা।

সংসদীয় কমিটির আশঙ্কা, খরচের গতি যদি এতটাই মন্থর থাকে, তবে চন্দ্রযান-৪, চন্দ্রযান-৫ এবং শুক্র অভিযানের মতো গুরুত্বপূর্ণ মিশনগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়াবে। যদিও মহাকাশ বিভাগ জানিয়েছে, জটিল নকশা চূড়ান্ত করা এবং যন্ত্রাংশ না পাওয়ার  কারণে শুরুতে গতি কিছুটা কম থাকে, তবে কমিটি দ্রুত কাজের গতি বাড়িয়ে বরাদ্দ অর্থ সঠিক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।

শিক্ষা বনাম ‘উইনেবিলিটি’! ভোটের ময়দানে বৈচিত্র্যের রং, প্রশ্নে ন্যূনতম যোগ্যতা

গণতন্ত্রের মাপকাঠি কি শুধুই ভোটে জেতার ক্ষমতা? নাকি আইনসভায় বসার আগে দরকার ন্যূনতম শিক্ষার ভিত্তি? এই চিরচেনা বিতর্ক ফের মাথাচাড়া দিল ২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার ছবিতে।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামার বিশ্লেষণে ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস’ (এডিআর) এবং ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ইলেকশন ওয়াচ’-এর রিপোর্ট বলছে, প্রার্থীদের শিক্ষাগত মানচিত্র যেন একেবারে সমাজের প্রতিচ্ছবি— বহুরঙা, বৈচিত্র্যময়, কখনও বিস্ময়করও বটে।

প্রথম দফায় মোট ১,৪৭৫ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রায় অর্ধেক, ৭৩৫ জন নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বলে জানিয়েছেন। অর্থাৎ, বিদ্যালয় স্তরের শিক্ষাই ভরসা তাঁদের।

উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীদের সংখ্যাও কম নয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, ৬৮১ জন প্রার্থী স্নাতক বা তারও বেশি শিক্ষিত, যা মোটের প্রায় ৪৬ শতাংশ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন স্নাতকোত্তর, এমনকি ডক্টরেট ডিগ্রিধারীরাও। পাশাপাশি, ২৫ জন প্রার্থী ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করেছেন বলেও জানিয়েছেন।

কিন্তু পরিসংখ্যানের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক অন্যত্র। এখনও এমন প্রার্থী রয়েছেন, যাঁদের প্রথাগত শিক্ষা কার্যত নেই বললেই চলে। ২০ জন প্রার্থী নিজেদের ‘অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন’ বলে উল্লেখ করেছেন, আর ১৪ জন সরাসরি জানিয়েছেন, তাঁরা নিরক্ষর!

‘অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস’ (এডিআর)-এর রিপোর্ট

এই বৈপরীত্যই যেন গণতন্ত্রের প্রকৃত রূপকে সামনে আনে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের রাজনীতিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা নয়, শেষ কথা বলে ‘উইনেবিলিটি’। অর্থাৎ, প্রার্থী কতটা জনপ্রিয়, কতটা প্রভাবশালী, এবং সবচেয়ে বড় কথা তিনি আসনটি জিতিয়ে আনতে পারবেন কি না, সেটাই টিকিট বণ্টনের মূল মাপকাঠি হয়ে দাঁড়ায়।

তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, বিধানসভায় যেখানে জটিল আইন, বাজেট ও নীতিনির্ধারণের মতো গুরুতর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়, সেখানে জনপ্রতিনিধিদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা উচিত কি না? নাগরিক সমাজের একাংশ মনে করে, শিক্ষার ভিত্তি না থাকলে আইন প্রণয়নের গুণগত মানে প্রভাব পড়তেই পারে।

আবার অন্য মতও রয়েছে। তাঁদের যুক্তি, শিক্ষা শুধু ডিগ্রিতে সীমাবদ্ধ নয়— জনসংযোগ, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং মানুষের সমস্যার গভীর উপলব্ধিই একজন জনপ্রতিনিধিকে সফল করে তোলে।

সব মিলিয়ে, ভোটের ময়দানে এই শিক্ষাগত বৈচিত্র্য একদিকে যেমন গণতন্ত্রের অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্রকে তুলে ধরে, তেমনই অন্যদিকে নতুন করে উসকে দেয় পুরনো প্রশ্ন, ‘যোগ্যতা’ ঠিক কিসে?

তবে প্রার্থীদের যোগ্য়তা নিয়ে যত চর্চায় হোক না কেন, এ ব্যাপারে শেষ কথা বলবেন ভোটাররাই। ব্যালটের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁরা কি প্রার্থীর শিক্ষাগত ডিগ্রিকে গুরুত্ব দেবেন, নাকি ভরসা রাখবেন পরিচিত মুখ, স্থানীয় প্রভাব আর দলীয় প্রতীকে, তার উত্তর মিলবে ৪ মে ফল ঘোষণার দিনই।

প্রতি পাঁচ জনে একজন ‘ধনকুবের’! কোটিপতি প্রার্থীর ঢেউয়ে ভাসছে বাংলার ভোট

একসময় স্লোগানে বদলের হাওয়া ছিল, ছিল গরিব, খেটে খাওয়া মানুষের প্রতিনিধিত্বের দাবি। ২০২৬-এর ভোটের দরজায় দাঁড়িয়ে ছবিটা যেন উল্টো— এখন রাজনীতির কেন্দ্রে ‘মানুষ’ নয়, বরং ‘মোট সম্পত্তি’!

অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (এডিআর) ও ওয়েস্ট বেঙ্গল ইলেকশন ওয়াচ-এর রিপোর্ট কার্যত চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে— বাংলার ভোট মানেই এখন টাকার খেলা। প্রথম দফার ১৪৭৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩০৬ জন কোটিপতি! অর্থাৎ, প্রতি পাঁচ জনে একজন ‘ধনকুবের’। প্রশ্ন উঠছেই, সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হওয়ার লড়াইয়ে এত বিপুল অর্থবল কেন?

অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (এডিআর)-এর রিপোর্ট




তথ্য অনুযায়ী, শীর্ষে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। ১৪৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০৬ জনই কোটিপতি! শতাংশের হিসেবে প্রায় ৭২। বিরোধী বিজেপিও খুব একটা পিছিয়ে নেই, ৪৭ শতাংশ প্রার্থী কোটিপতি। বাম ও কংগ্রেসের ক্ষেত্রেও ছবিটা খুব আলাদা নয়, যদিও হার তুলনায় কম।

গড় সম্পদের হিসেবেও শীর্ষে তৃণমূল, প্রায় ২.৯০ কোটি টাকা! বিজেপি ২.৫৩ কোটি, কংগ্রেস ২.০৩ কোটি। আর ‘সর্বহারার’ তকমা জুড়ে থাকা সিপিআই(এম)-এর প্রার্থীদের গড় সম্পদ ৫০ লক্ষ টাকার আশপাশে, তাতেও কিন্তু গরিবের ছোঁয়া খুব একটা নেই!

সবচেয়ে ধনী প্রার্থীও শাসক শিবিরের— জঙ্গিপুরের সমীর কুমার, যার সম্পত্তি ১০০ কোটিরও বেশি। তালিকার ওপরের দিকেই রয়েছেন তৃণমূলের রুবি ঘোষ (২৩ কোটি) এবং বিজেপির গৌতম মিত্র (২৫ কোটি)। ভোটের লড়াই যে আর আদর্শের নয়, তা যেন এই অঙ্কই প্রমাণ করছে।

রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা – এখন রাজনীতির নতুন মন্ত্র ‘উইনেবিলিটি’। আর সেই ‘জেতার ক্ষমতা’ নির্ধারণ করছে পকেটের ওজন। কোটি কোটি টাকা খরচ করার সামর্থ্য, প্রভাব বলয়, আর সংগঠনের ভিত— সব মিলিয়েই তৈরি হচ্ছে ‘যোগ্য’ প্রার্থী। ফলে, তৃণমূল হোক বা অন্য দল— টিকিটের দৌড়ে এগিয়ে থাকছেন ধনীরাই।

কিন্তু এই ঝলমলে ছবির আড়ালে লুকিয়ে আছে নির্মম বৈষম্য। একই নির্বাচনে এমন প্রার্থীও আছেন, যাঁদের মোট সম্পদ ৫০০ টাকা! ডোমকলের এক নির্দল প্রার্থী থেকে শুরু করে মেদিনীপুর-মানবাজারের প্রার্থীরা, যাঁদের সম্পদ হাজার টাকারও কম। একদিকে কোটির পর কোটি, অন্যদিকে পকেটে কয়েকশো!

ভোট আসবে, ভোট যাবে। কিন্তু এই অঙ্কের হিসেব কি বদলাবে? নাকি বাংলার রাজনীতি চিরতরে ঢুকে পড়েছে ‘টাকার জৌলুসে’? উত্তর দেবে ব্যালট বাক্স, কিন্তু প্রশ্নটা ইতিমধ্যেই ঘুরছে ভোটারদের মনে ৷

১২ বছরে প্রথমবার ধাক্কা: মোদী সরকারের সংবিধান সংশোধন বিল খারিজ লোকসভায়

গত ১২ বছরে এই প্রথমবার বড়সড় সংসদীয় বিপর্যয়ের মুখে পড়ল মোদী সরকার। শুক্রবার লোকসভায় ভোটাভুটির পর প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় খারিজ হয়ে গেল প্রস্তাবিত ‘সংবিধান (১৩১তম সংশোধন) বিল ২০২৬’। এই বিলটির মূল লক্ষ্য ছিল লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করা এবং মহিলা সংরক্ষণ বিলে (Women Reservation Bill)-এর স্বার্থে নতুন করে সীমানা নির্ধারণ বা ‘ডেলিমিটেশন’ (Delimitation) প্রক্রিয়া শুরু করা।

ভোটাভুটির পরিসংখ্যান

এই বিল পাশের জন্য মোদী সরকারের দরকার ছিল ৩২৬টি ভোট। এদিন সংসদে উপস্থিত ৪৮৯ জন সদস্যের মধ্যে ২৯৮ জন বিলটির পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের কারণে বিপক্ষে ভোট পড়ে ২৩০টি। নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো সংবিধান সংশোধন বিল পাস করাতে হলে হাউসে উপস্থিত এবং ভোটদানকারী সদস্যদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ (Two-thirds majority) সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমান ক্ষেত্রে সেই ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে ব্যর্থ হয় শাসক দল। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা আনুষ্ঠানিকভাবে বিলটি পরাজিত হওয়ার ঘোষণা করেন।

বিলের মূল লক্ষ্য কী ছিল?

প্রস্তাবিত এই ১৩১তম সংশোধন বিলে দুটি প্রধান বিষয় ছিল:
১. আসন সংখ্যা বৃদ্ধি: ২০২৬ সালের জনগণনা-পূর্ববর্তী তথ্যের ভিত্তিতে লোকসভার বর্তমান আসন সংখ্যা বাড়ানো।
২. মহিলা সংরক্ষণ বিল ও ডেলিমিটেশন: মহিলা সংরক্ষণ বিল কার্যকর করার পথে প্রধান বাধা হিসেবে দেখা দেওয়া সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডেলিমিটেশন প্রক্রিয়ার পথ প্রশস্ত করা।

ভোটের উত্তাপের সঙ্গে ‘ডাবল হিট’! সপ্তাহান্তেই তাপমাত্রার ঝাঁঝ, উত্তরে ঝড়বৃষ্টির তাণ্ডব

ভোটের আবহে এমনিতেই তপ্ত বাংলা। তার উপর এবার প্রকৃতির চোখ রাঙানি! গরম আর ঝড়বৃষ্টির যুগলবন্দিতে কার্যত দিশেহারা রাজ্য। দক্ষিণবঙ্গে দিনের শুরুতেই রোদের তেজ, আর বিকেলে বিক্ষিপ্ত কালবৈশাখীর স্বস্তি, এই টানাপোড়েনের মাঝেই আবহাওয়া দফতরের নতুন বার্তা, সপ্তাহান্তেই বদলে যাবে ছবিটা। ফের বাড়বে তাপমাত্রা, সঙ্গে বাড়বে ভ্যাপসা অস্বস্তি।

হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, উত্তর-পশ্চিমের শুষ্ক বাতাসের দাপটে রবিবার, ১৯ এপ্রিল থেকে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে বাড়বে গরমের দাপট। আগামী পাঁচ দিনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। তারপর দু’দিন তাপমাত্রা স্থির থাকলেও অস্বস্তি কমার কোনও লক্ষণ নেই।

অন্যদিকে, সম্পূর্ণ উল্টো ছবি উত্তরবঙ্গে। উত্তর উপকূলীয় ওড়িশা সংলগ্ন এলাকায় তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে টানা ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস। শনি ও রবিবার দার্জিলিং ও জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা।

কোচবিহার, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ারেও একই সতর্কতা জারি। সোমবারও পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হবে না, সপ্তাহজুড়েই চলবে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি।
দক্ষিণবঙ্গেও অবশ্য সপ্তাহান্তে পুরোপুরি রেহাই নেই। শনিবার বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, নদিয়া, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়া। এই জেলাগুলিতে জারি হয়েছে হলুদ সতর্কতা।

তবে রবিবার থেকেই বৃষ্টির সম্ভাবনা কমে যাবে দক্ষিণের জেলাগুলিতে। তার বদলে বাড়বে ভ্যাপসা গরম। বিশেষ করে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ‘হাঁসফাঁস’ পরিস্থিতির সতর্কতা জারি হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত এই পাঁচ জেলায় তাপপ্রবাহ-সদৃশ অস্বস্তি বজায় থাকবে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, এই পাঁচ জেলাতেই ২৩ এপ্রিল রয়েছে বিধানসভা ভোট। ফলে প্রচণ্ড গরমের মধ্যেই ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে সাধারণ মানুষকে। ভোটের উত্তাপ আর আবহাওয়ার তাপ, দুই মিলিয়ে কার্যত ‘ডাবল হিট’-এর মুখে পড়তে চলেছে দক্ষিণবঙ্গ।

রাতের ‘নাক ডাকা’ আর মজা নয়! নিঃশব্দে বাড়ছে হার্ট অ্যাটাক-স্ট্রোকের ঝুঁকি!

অনেকেই নাক ডাকা নিয়ে হাসিঠাট্টা করেন। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, এই অভ্যাস মোটেই হালকা ভাবে নেওয়ার মতো নয়! নাক ও গলার মাঝের পথ দিয়ে ঠিকমতো বাতাস চলাচল না করতে পারলেই তৈরি হয় কম্পন— আর সেখান থেকেই নাক ডাকার শব্দ। এর পিছনে লুকিয়ে থাকতে পারে বড়সড় স্বাস্থ্যঝুঁকি।

সর্দিজনিত নাক বন্ধ, অতিরিক্ত মদ্যপান, স্থূলতা , ছোট ও মোটা গলার গঠন— এমন নানা কারণে বাড়ে নাক ডাকার প্রবণতা। অনেক ক্ষেত্রে এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বিপজ্জনক ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া সিনড্রোম’, যেখানে ঘুমের মধ্যেই বারবার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। যদিও সাধারণ নাক ডাকা আর ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’ এক নয়।

দীর্ঘদিন ধরে নাক ডাকার সমস্যা থাকলে তা শরীরে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ, মধুমেহ, সারাদিনের ক্লান্তি, মনোসংযোগের ঘাটতি, এমনকি স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও বাড়ে। অক্সিজেনের ঘাটতিতে মস্তিষ্কের ওপরেও পড়তে পারে নেতিবাচক প্রভাব।

কী করবেন?

জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলেই অনেক ক্ষেত্রে কমতে পারে সমস্যা। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত যোগব্যায়াম, একদিকে কাত হয়ে শোয়ার অভ্যাস এবং মদ্যপান এড়িয়ে চলা— এই কয়েকটি সহজ অভ্যাসই বড় পরিবর্তন আনতে পারে। নাক বন্ধ থাকলে প্রয়োজনে ব্যবহার করা যেতে পারে ন্যাজাল ড্রপ।

কখন সতর্ক হবেন?

রাতে অতিরিক্ত নাক ডাকার ফলে ঘুমের ব্যাঘাত, দিনের বেলায় ঝিমুনি, শ্বাসকষ্ট বা উচ্চ রক্তচাপ— এই লক্ষণগুলি দেখা দিলে আর দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। অনেক সময় পাশে শোওয়া মানুষের পর্যবেক্ষণই প্রথম সতর্কবার্তা হয়ে ওঠে।

স্লিপ অ্যাপনিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ‘সিপ্যাপ’ (CPAP)।

চিকিৎসার উপায় কী?

সমস্যা গুরুতর হলে ব্যবহার করা হয় ‘সিপ্যাপ’ (CPAP-Continuous Positive Airway Pressure) মেশিন, যা ঘুমের সময় শ্বাসনালী খোলা রাখতে সাহায্য করে। কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারও প্রয়োজন হতে পারে, বিশেষ করে অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার (Obstructive Sleep Apnea Operation) ক্ষেত্রে। নাক ডাকা তাই শুধুই বিরক্তির কারণ নয়— এটি শরীরের এক গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে বিপদ হতে পারে নিঃশব্দেই।