The Fourth Axis

শহরে ফের ‘ভাইরাল আতঙ্ক’! গলা ব্যথা, শুকনো কাশি—নতুন উপসর্গে চিন্তা বাড়াচ্ছে জ্বর

viral fever in kolkata

শহরে ফের ‘ভাইরাল আতঙ্ক’! গলা ব্যথা, শুকনো কাশি—নতুন উপসর্গে চিন্তা বাড়াচ্ছে জ্বর

শেষ আপডেট: 16 April 2026 17:00

করোনা মহামারীর ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার পরই শহরে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে ভাইরাল জ্বরের প্রকোপ। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই জ্বরের বিস্তার নতুন কিছু নয়, তবে এ বার উপসর্গের বদল এবং দ্রুত সংক্রমণের হার উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

উপসর্গ

ভাইরাসের স্বভাবই হল সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলে নেওয়া। সেই কারণে আগের পরিচিত উপসর্গের পাশাপাশি এবার দেখা যাচ্ছে কিছু নতুন লক্ষণও। এক সময় হাঁচি-কাশি বা জ্বরই ছিল প্রধান লক্ষণ, এখন অনেক ক্ষেত্রেই জ্বর না থাকলেও দীর্ঘস্থায়ী শুকনো কাশি, গলা ব্যথা এবং শরীর ভাঙার মতো উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হচ্ছেন রোগীরা।

পর্যবেক্ষণ বলছে, বর্তমান সময়ে যে উপসর্গগুলি বেশি দেখা যাচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে গলা ব্যথা, হাত-পা ব্যথা, শুকনো কাশি এবং অনেক ক্ষেত্রে জ্বরের উপস্থিতি না-ও থাকতে পারে। ফলে অনেকেই প্রথম দিকে বিষয়টি হালকাভাবে নিচ্ছেন, যা পরবর্তীতে সমস্যা বাড়াচ্ছে।

অন্যদিকে, প্রচলিত ভাইরাল সংক্রমণের উপসর্গ যেমন মাথা ব্যথা, গাঁটে ব্যথা, ত্বকে র‍্যাশ, পাতলা পায়খানা বা উচ্চ জ্বর—এসবও কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে কী করণীয়?

  • ভিড় এড়ানো সম্ভব না হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বিশেষ করে গণপরিবহণ, অফিস বা বাজারের মতো জায়গায় সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। একই পরিবারের একাধিক সদস্য বা কোনও এলাকায় একসঙ্গে অনেক মানুষের মধ্যে একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে সতর্ক হওয়া জরুরি।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যাবে না। ভাইরাল সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না, বরং শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাঁদের ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ নেই, তাঁরা প্রয়োজনে ওআরএস খেতে পারেন। জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল নেওয়া যেতে পারে, তবে মাত্রা সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
  • তবে যদি কাশি দীর্ঘস্থায়ী হয়, শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় বা শারীরিক অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে থাকে, তা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

সব ভাইরাল জ্বরই করোনা নয়। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকাই একমাত্র উপায়। একই সঙ্গে সংক্রমণ ছড়ানো রুখতে নিজের উপসর্গ থাকলে অন্যদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি। অবহেলা করলে তা বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই সতর্ক থাকা, নিয়ম মেনে চলা এবং নিজে সুরক্ষিত থেকে অন্যদেরও সুরক্ষিত রাখার পদ্ধতি অবলম্বন করা দরকার।