triglyceride-treatment-AI-image
৩০শে এপ্রিল, ২০২৬
রক্তে চুপিসারে বাড়ছে এক বিপজ্জনক উপাদান—ট্রাইগ্লিসারাইড। বাইরে থেকে তেমন লক্ষণ না থাকলেও শরীরের ভিতরে তৈরি করছে মারাত্মক ঝুঁকি। নিয়ন্ত্রণে না রাখলে এই স্নেহ পদার্থই ডেকে আনতে পারে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এমনকি অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহের মতো জটিল রোগ।
ট্রাইগ্লিসারাইড কী?
ট্রাইগ্লিসারাইড হল এক ধরনের ফ্যাট বা স্নেহ পদার্থ, যা আমরা খাবারের মাধ্যমে যে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ করি, তা থেকে যকৃত তৈরি করে। পরে তা শরীরের ফ্যাট কোষে জমা থাকে এবং প্রয়োজনে শক্তি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। শরীরের তাপমাত্রা বজায় রাখা ও হরমোনের কাজে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
কোথা থেকে বাড়ছে ঝুঁকি?
পরিশোধিত চাল, গম, অতিরিক্ত ঘি-মাখন, তেলেভাজা খাবার এবং মদ্যপানের অভ্যাস ট্রাইগ্লিসারাইড দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। আধুনিক জীবনযাত্রার অনিয়ম—কম শারীরিক পরিশ্রম, বেশি জাঙ্ক ফুড—এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
কতটা হলে বিপজ্জনক?
রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের স্বাভাবিক মাত্রা ১৫০ mg/dl-এর নিচে। কিন্তু তা যদি ২০০-৩০০ mg/dl বা তার বেশি হয়, তখনই তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
কী কী সমস্যা হতে পারে?
উচ্চ ট্রাইগ্লিসারাইডের কারণে—হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে ৷ স্ট্রোকের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়৷ এছাড়াও অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ (প্যানক্রিয়াটাইটিস) হতে পারে৷
উপসর্গ কী?
প্রথম দিকে তেমন স্পষ্ট লক্ষণ না থাকলেও—পেট ব্যথা বা অল্পে পেট ভরে যাওয়া, বুকে চাপ লাগা, হঠাৎ ডায়াবেটিস ধরা পড়া, থাইরয়েডের সমস্যা৷ এসবই হতে পারে সতর্কবার্তা।
কী করবেন না?
অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার, তেলেভাজা, পরিশোধিত শস্য এবং মদ্যপান যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত।
কী করবেন?
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ মাছ খেতে হবে৷ সবুজ শাকসবজি, আঁশযুক্ত খাবার, বাদাম রাখুন খাদ্যতালিকায়৷ নিয়মিত হাঁটা ও ব্যায়াম অত্যন্ত জরুরি৷ রান্নায় অলিভ অয়েল ব্যবহার উপকারী ৷
এছাড়া নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা ও সচেতন জীবনযাত্রাই পারে এই ‘নীরব ঘাতক’-কে নিয়ন্ত্রণে রাখতে। এখন থেকেই সতর্ক না হলে ভবিষ্যতে বড় বিপদের মুখে পড়তে হতে পারে।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
কলকাতায় জন্ম। উত্তর কলকাতার হোলি চাইল্ড ইনস্টিটিউট, বিডন স্ট্রীট স্কুলে প্রাথমিক পাঠ। এরপর ডাক্তারির পড়াশোনায় প্রবেশ। যাদবপুরে কে. পি. সি মেডিক্যাল কলেজ থেকে MBBS, তারপর পি. জি হাসপাতাল থেকে MD শেষ হতে হতে পেরিয়েছে অনেক গুলো বছর। লেখার ইচ্ছে ছোটবেলা থেকে। ভ্রমণ ভালোবাসেন। পেশা আর লেখা দুটোই উজ্জীবিত রাখে তাঁকে।