

হ্যাপি বার্থডে জিমি। ছবি - Google
২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বাবা হেলমেট ব্যবহারের অনুমতি দেননি। দীর্ঘ সময় শোলার টুপি পরে অমরনাথ সামলেছেন বিশ্বত্রাস ক্যারিবিয়ান বোলারদের। নির্বাচকদের অবিচার অথবা ফাস্ট বোলারের গতি, ব্যাটেই সব জবাব দিয়েছেন। ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়ে তিনি চিরকাল জায়গা পেয়েছেন।
ভারতীয় ক্রিকেটের ‘আনসাং হিরো’, চিরকালের ফাইটার মহিন্দার অমরনাথই। তিনি ছিলেন কামব্যাকম্যান, যতবার বাদ পড়েছেন, ততবার পারফরম্যান্স দেখিয়ে দলে ফিরে এসেছেন। একবার নির্বাচকদের উদ্দেশে বলেছিলেন, জোকারের দল! তখনকার দিনে এমন প্রতাপ কারওর পক্ষে ভাবাই যেত না। বিপক্ষের ফাস্ট বোলারদের বাউন্সার হোক অথবা নির্বাচকদের অবিচার, বারবার গর্জে উঠেছেন জিমি (মহিন্দারের ডাকনাম)।
গাভাসকার একটা টেস্টে নন স্ট্রাইকার প্রান্তে ব্যাটিং করছিলেন। হঠাৎ বিশ্বত্রাস ক্যারিবিয়ান ফাস্ট বোলার মাইকেল হোল্ডিংয়ের একটা বল অমরনাথের বুকে আঘাত করল। গাভাসকার এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলেন আঘাত গুরুতর কিনা। মহিন্দার অমরনাথ একবারও আঘাতের জায়গায় হাত দিলেন না। ওই সিরিজের শেষ টেস্ট সেরা ফর্মের হোল্ডিংয়ের বিরুদ্ধে ওই মহিন্দার অমরনাথ ৫৮ রানের সাহসী ইনিংস খেললেন, যার মধ্যে ছিল তিনটি ছয়। বারবার নির্বাচকদের অবিচারের শিকার হয়েছেন। আবার লড়াই করে ফিরেও এসেছেন। ভাল খেলেও দল থেকে বাদ পড়া তাঁর ক্রিকেট কেরিয়ারে ছিল চেনা এক চিত্রনাট্য।
বাবা হেলমেট ব্যবহারের অনুমতি দেননি। দীর্ঘ সময় শোলার টুপি পরে অমরনাথ সামলেছেন বিশ্বত্রাস ক্যারিবিয়ান বোলারদের। নির্বাচকদের অবিচার অথবা ফাস্ট বোলারের গতি, ব্যাটেই সব জবাব দিয়েছেন। ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়ে তিনি চিরকাল জায়গা পেয়েছেন। ক্রিকেটপ্রেমীরা তাঁকে মনে রেখেছেন ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দলের শ্রেষ্ঠ অলরাউন্ডার হিসেবে। সেমিফাইনাল ও ফাইনালের সেরা ক্রিকেটার। তাঁর বলে মাইকেল হোল্ডিং আউট হতেই লর্ডসের উচ্ছ্বাস আছড়ে পড়েছিল ভারতের গলি থেকে রাজপথে।
টাইগার পতৌদি তাঁর প্রতিভা চিনতে ভুল করেননি। মহিন্দার অমরনাথের টেস্ট অভিষেক হয় ১৯৬৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। আউট করেছিলেন ইয়ান চ্যাপেল ও কিথ স্ট্যাকপোলকে। তাঁর বলে তেমন পেস না থাকায় ব্যাটাররা ভাবতেন নিরীহ গোত্রের বল, সেখানেই তাদের ভুল হত। তাঁর অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বলগুলোয় ছোট্ট সুইং ব্যাটারদের ঘাতক হয়েছে। ১৯৬৯ এর টেষ্ট অভিষেকের পর ভারতীয় দলে ফেরার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে অনেকগুলো দিন। নিজের প্রতি প্রত্যয় হারাননি, নির্বাচকদের ভুল চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে অনুশীলনের সময় বাড়িয়েছেন। ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ টেস্ট বিধ্বস্ত ভারতের হয়ে মহিন্দার একাই ব্যাট হাতে লড়াই করেন। এরপর ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন দিয়ে তাঁকে তিন নম্বরে তুলে আনা হয়।
১৯৭৭-৭৮ এর অস্ট্রেলিয়া সফরে মহিন্দার আবার নিজের জাত চেনালেন। দুরন্ত জেফ টমসনকে কেবল অনায়াসে সামলালেন না, চমৎকার হুক করছিলেন। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ব্যাট করছিলেন ৮০- এর ঘরে। স্যাম গ্যামনের একটি বল হুক করতে গিয়ে ডানদিকের কপালে প্রচণ্ড আঘাত পেলেন। লাঞ্চের আগে ঘটনাটা ঘটে। তাঁকে ধরাধরি করে মাঠের বাইরে আনা হয়। চোখের উপরে কালচে নীল খত। কিন্তু সবাইকে অবাক করে সবার নির্দেশ অগ্ৰাহ্য করে আবার ব্যাট হাতে নেমে ৯০ রানে আউট হলেন। পরের টেস্টে সেঞ্চুরি।
পাকিস্তান সিরিজে ইমরান খানের বাউন্সারে আহত হয়ে অচৈতন্য অবস্থায় লুটিয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু সবাইকে অবাক করে সাহসী জিমি উঠে দাঁড়ালেন। শেষ টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁর ৫৮ রানের সাহসী ইনিংস সবাইকে মুগ্ধ করে নিজের জায়গা পাকা করলেন। দুর্ভাগ্যের হলেও সত্য মহিন্দার অমরনাথ কোনওদিন নিজের পছন্দের ব্যাটিং অর্ডারে ব্যাট করতে পারেন নি। কখনও তিন নম্বরে, কখনও আর নীচে।
আজ ২৪ সেপ্টেম্বর এই কিংবদন্তির মানুষটির জন্মদিন। ৭৪টি বসন্ত পার করলেন। যতদিন ভারতীয় ক্রিকেট থাকবে, ততদিন জিমির ক্যারিশমা বজায় থাকবে।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
কলকাতার সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক। দুটি ফুটবল বিশ্বকাপ এবং দুটি ক্রিকেট বিশ্বকাপ কভার করা এই সাংবাদিকের একাধিক আরও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। শুভ্র দুটি বইও লিখেছেন, একটা বিশ্বকাপের গল্প যুদ্ধ এবং শেষটি স্বপ্নের নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।
