line in liquor shop
২৪শে এপ্রিল, ২০২৬
দুর্গাপুর: গণতন্ত্রের উৎসব শেষ হতেই যেন আর এক ‘উৎসবের’ সূচনা! একদিন আগেই বৈশাখের তপ্ত রোদ মাথায় নিয়ে রেকর্ড ভোটদানের নজির গড়েছিল বাংলা। বুথের সামনে দীর্ঘ লাইন, মানুষের চোখে দায়িত্ববোধের ঝলক—সব মিলিয়ে ছিল এক অন্য ছবি।
কিন্তু ঠিক তার পরের দিন, শুক্রবার সকালে, দুর্গাপুরে দেখা গেল একই রকম লাইন… তবে গন্তব্য বদলে গেছে! ভোটকেন্দ্র নয়, এবার সেই ভিড় মদের দোকানের সামনে।
শহরের সিটি সেন্টার থেকে বেনাচিতি বাজার, লিংক রোড থেকে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক—যেদিকে চোখ যায়, শুধু লাইন আর লাইন। তাপমাত্রা ছুঁয়েছে ৪০ ডিগ্রি, তবু কারও তাতে ভ্রূক্ষেপ নেই। কাঁকসার পানাগড়, অন্ডাল, উখরা—প্রায় গোটা শিল্পাঞ্চলেই একই ছবি। মাথায় গামছা, হাতে ব্যাগ, কারও হাতে বড় থলি—যেন আগেভাগেই প্রস্তুতি সেরে রেখেছিলেন ক্রেতারা!
দৃশ্য দেখে প্রথমে অনেকেই ভেবেছিলেন—আবার কি ভোট? নাকি কোনও সরকারি পরিষেবা? কিন্তু কৌতূহলের পর্দা সরতেই সামনে এল আসল কারণ—পাঁচ দিন পর খুলেছে মদের দোকান!
নির্বাচনের আগে ১৯ এপ্রিল থেকে জারি হয়েছিল ‘ড্রাই ডে’। সেই নিষেধাজ্ঞা কাটতেই যেন বাঁধ ভাঙা স্রোত! সকাল হতেই দোকানের সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন সুরাপ্রেমীরা। কেউ কেউ আবার ভোর থেকেই লাইনে জায়গা পাকা করে ফেলেছেন।
এক দোকানকর্মীর কথায়, “উপরে থেকে নির্দেশ ছিল, তাই আজ খুলেছি। তবে ভিড় দেখে আবার বন্ধ করার নির্দেশও আসতে পারে। সকাল থেকেই যা ভিড়, সামাল দিতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে!”
শুধু দুর্গাপুরেই নয়, একই ছবি রাজ্যের নানা প্রান্তে—বালিগঞ্জ, বেহালা, বারুইপুর থেকে বাঁকুড়া—সব জায়গাতেই ‘লাইন-জ্বর’। ভোটের লাইনে যে ধৈর্য আর উৎসাহ দেখা গিয়েছিল, সেটাই যেন একদিনে রূপ বদলে দাঁড়িয়েছে মদের লাইনে।
প্রশাসন অবশ্য পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। তবে এই ছবিই এখন বড় প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে—গণতন্ত্রের দায়িত্ব পালন আর ব্যক্তিগত চাহিদার টানে মানুষের এই সমান উন্মাদনা, সমাজের কোন বাস্তবতাকে তুলে ধরছে?
ভোটের উত্তাপের পরেই ‘বোতলের উন্মাদনা’—রাজ্যজুড়ে এখন এটাই দিনের সবচেয়ে বড় চর্চা!
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।