

পুজোর পর স্লিপ সাইকেল ফেরানোর ৩ দিনের ছক! ছবি:AI
পুজোর পর রাত জাগার অভ্যাসে ঘুমের বারোটা বেজেছে? স্রেফ ৩ দিনে কীভাবে শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম ঠিক করবেন? রইল বিজ্ঞানসম্মত বাস্তব রুটিন।
পুজো শেষ। বিজয়ার মিষ্টির মিষ্টিভাব কাটতে না কাটতেই ক্যালেন্ডার মনে করিয়ে দিচ্ছে—আবার সেই ভোরবেলার অ্যালার্ম, বাস কিংবা ভিড় ট্রেনের লড়াই আর ল্যাপটপ স্ক্রিনের সামনে টানা আট ঘণ্টার ডিউটি। কিন্তু সমস্যা হল, ক্যালেন্ডার বদলে গেলেও শরীরটা এখনও আটকে আছে মণ্ডপের রাতজাগা আড্ডায় কিংবা ভোর চারটেয় রেস্তরাঁর লাইনে।
ছুটির দিনগুলোতে রাত তিনটেয় ঘুমিয়ে পরদিন দুপুর বারোটায় চোখ খোলার যে স্বাধীনতা শরীর পেয়েছিল, অফিস খোলার সঙ্গে সঙ্গেই তার ওপর নেমে এসেছে নির্মম খাঁড়া। ফল? সকাল আটটায় চোখ খুলতেই পারছে না মস্তিষ্ক, অফিসে পৌঁছনোর আগেই তীব্র ব্রেন-ফগ আর অকারণ খিটখিটে মেজাজ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘সোশ্যাল জেট ল্যাগ’ (Social Jetlag)।
দিনকে রাত আর রাতকে দিন করার এই উৎসব-হ্যাংওভার কাটাতে পুরো এক মাস সময় নেওয়ার বিলাসিতা আজকের কর্পোরেট জীবনে নেই। শরীরকে স্রেফ তিনটি দিনে চাবুক না মেরে, নিখুঁত বায়োলজিক্যাল ট্রিক্সে কীভাবে আগের ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনবেন? দেখে নেওয়া যাক তার স্টেপ-বাই-স্টেপ রোডম্যাপ।
ঘুম ঠিক করার সবচেয়ে বড় ভুল হলো রাতে তাড়াতাড়ি শুয়ে ছটফট করা। মস্তিষ্ক যখন রাত তিনটে পর্যন্ত জেগে থাকায় অভ্যস্ত, তখন রাত দশটায় বিছানায় শুলে সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে দু’ঘণ্টা ফেসবুক স্ক্রোল করা ছাড়া আর কিছুই হবে না।
আমাদের শরীরের বায়োলজিক্যাল ঘড়ি শুধু আলোর ওপর নির্ভর করে না; আমাদের অন্ত্র এবং লিভারের নিজস্ব ‘ফুড ক্লক’ (Peripheral Clocks) রয়েছে। পুজোর সময়ে মাঝরাতে বিরিয়ানি বা রোল খাওয়ার অভ্যাস অন্ত্রকে ভুল সঙ্কেত পাঠায়।
সোমবারের সকালে একদম সতেজ হয়ে নামার জন্য তৃতীয় দিনটা হবে নিখুঁত বায়োলজিক্যাল টিউনিংয়ের দিন।
| দিন | মূল লক্ষ্য | কী করবেন? | কী একেবারেই করবেন না? |
| ডে ১ | মস্তিষ্ককে দিন চেনা | সকাল ৭টায় উঠে ১৫ মিনিট সরাসরি রোদ লাগানো | দুপুরে ভাতঘুমে চোখ বোজা |
| ডে ২ | পেটের ঘড়ি ও ক্যাফেইন নিয়ন্ত্রণ | রাত সাড়ে আটটায় হালকা ডিনার, দিনের শুরুতে সচল থাকা | দুপুর ২টোর পর চা বা কফি খাওয়া |
| ডে ৩ | মেলাটোনিনের পূর্ণ ক্ষরণ | শোওয়ার ৬০ মিনিট আগে ফোন বন্ধ, হালকা গরম জলে স্নান | বিছানায় ফোন নিয়ে নোটিফিকেশন চেক করা |
শরীর কোনো ইলেকট্রনিক সুইচ নয় যে পুজোর হুল্লোড় শেষ হতেই অফ করে আবার ফর্মাল মোডে অন করা যাবে। বিবর্তনের নিয়মে তৈরি এই রক্তমাংসের বায়োলজিক্যাল ঘড়িটাকে সচল করতে দরকার একটু বৈজ্ঞানিক বোঝাপড়া। ওষুধ বা ঘুমের ট্যাবলেটের দিকে হাত না বাড়িয়ে এই তিনটি দিন শরীরকে একটু নিয়ম মেনে চালান—সোমবারের সকালে অ্যালার্ম ঘড়ি বাজার আগেই শরীর আপনাকে তাজা হয়ে ঘুম থেকে তুলে দেবে।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
সাংবাদিক, লেখক ও চিত্রনাট্যকার। দক্ষিণ কলকাতায় বেড়ে ওঠা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। কাজ করেছেন নিউজ ১৮ বাংলা, আনন্দবাজার অনলাইন এবং দ্য ওয়াল-র মতো সংবাদমাধ্যমে। এ ছাড়া শিক্ষকতা ও চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গেও যুক্ত থেকেছেন। সমকাল, সমাজ ও মানুষের মনস্তত্ত্ব থেকেই তাঁর সাহিত্য ও চিত্রনাট্যের মূল রসদ খুঁজে নেন। দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ানো এবং পশু-পাখি, প্রকৃতি ও বিজ্ঞানচর্চা তাঁর আগ্রহের বিষয়। মুদ্রিত গল্প সংকলন এবং উপন্যাস এ পর্যন্ত ৩টি; ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত লেখা অজস্র। বর্তমানে চিত্রনাট্য লেখেন বাংলা ধারাবাহিক, ওয়েব সিরিজ এবং বিদেশি ছবির জন্যও।
