westbengalassemblyelection2026
২৫শে এপ্রিল, ২০২৬
কলকাতা: দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রাক্কালে পশ্চিমবঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আঁটসাঁট করতে তৎপর নির্বাচন কমিশন । সেই লক্ষ্যেই রাজ্যে নতুন করে ১১ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হল । প্রথম দফায় বিক্ষিপ্ত অশান্তির ঘটনাকে মাথায় রেখে দ্বিতীয় দফায় কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ কমিশন— স্পষ্ট বার্তা প্রশাসনের অন্দরে।
ইতিমধ্যেই এ বারের নির্বাচনের জন্য ৮৪ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছিল, যা অতীতের তুলনায় অনেক বেশি। দ্বিতীয় দফার আগে সেই সংখ্যাই আরও বাড়িয়ে কার্যত নজির গড়ল কমিশন। সূত্রের খবর, স্পর্শকাতর ও অতি স্পর্শকাতর এলাকাগুলিকে আলাদা করে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানেই বাড়তি নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন পর্যবেক্ষকদের সকলেই ভিন্রাজ্যের অফিসার— নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। যদিও তাঁদের নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকছে রাজ্য পুলিশের উপরই।
গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে। ভোট মোটের উপর শান্তিপূর্ণ হলেও, একাধিক জায়গা থেকে বিচ্ছিন্ন অশান্তির অভিযোগ সামনে আসে। কোথাও বিরোধী দলের এজেন্টদের বুথে বসতে বাধা, কোথাও ইভিএম বিকল, আবার কোথাও ভোটারদের বুথে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এই সব ঘটনাকেই গুরুত্ব দিয়ে দ্বিতীয় দফায় কড়া নজরদারির পথে হাঁটছে কমিশন।
প্রথম দফার ভোটদানের হার ছিল চোখে পড়ার মতো— ৯২.৮৮ শতাংশ। নির্বাচন কমিশনের দাবি, স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গে এত বেশি ভোটদানের নজির বিরল। এই বিপুল অংশগ্রহণকে গণতন্ত্রের পক্ষে ইতিবাচক বলেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি দ্বিতীয় দফাতেও আরও বেশি সংখ্যক ভোটারকে বুথমুখী হওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
তবে ভোটের এই উচ্চ হারের পিছনে ভিন্ন মতও রয়েছে। একাংশের মতে, এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে আশঙ্কার জেরেই বহু ভোটার ভোট দিতে আগ্রহী হয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, ভোট না দিলে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণেই কর্মসূত্রে ভিন্রাজ্যে থাকা বহু মানুষও ভোট দিতে ফিরে এসেছেন রাজ্যে।
দীর্ঘদিন পর এ বার পশ্চিমবঙ্গে দুই দফায় নির্বাচন হচ্ছে। ভোট ঘোষণা থেকেই কমিশন স্পষ্ট করেছিল— দফা কম হলেও নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে কোনও আপস হবে না। সেই মতো ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য পৃথক সাধারণ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ ও নির্বাচনী ব্যয় সংক্রান্ত পর্যবেক্ষকদের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
দ্বিতীয় দফার আগে পুলিশ পর্যবেক্ষকের সংখ্যা বৃদ্ধি কমিশনের সেই কৌশলকেই আরও জোরালো করল। এখন সব নজর ২৯ এপ্রিল— বাকি ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণে কতটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা যায়, সেটাই বড় চ্যালেঞ্জ কমিশনের কাছে।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।