aabir-market-kolkata-
২রা মে, ২০২৬
আগামী ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের ভাগ্য নির্ধারণ। কার গলায় উঠবে জয়ের মালা, তা নিয়ে যখন রাজনৈতিক অলিন্দে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে, তখন সল্টলেকের ড্রয়িংরুম থেকে বড়বাজারের গলি—সর্বত্রই আলোচনার কেন্দ্রে এক অদ্ভুত ‘ট্রেড মার্কেট’ ট্রেন্ড। হোলি বা দোল উৎসবের পাট চুকেছে মাসখানেক আগে। কিন্তু বাজারের হালহকিকত বলছে, পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসায়িক মানচিত্রে এখন সবচেয়ে ‘হট কমোডিটি’ হল আবির। বিশেষ করে সবুজ এবং গেরুয়া আবিরের চাহিদা যেভাবে তুঙ্গে উঠেছে, তাতে বড়বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীরা একে ‘অকাল হোলি’ নয়, বরং ‘ইলেকশন বোনানজা’ হিসেবে দেখছেন।
কলকাতার বড়বাজারের রং ব্যবসায়ী রঘুনাথ সান্যালের গুদামে এখন পা ফেলার জায়গা নেই। সাধারণত দোলের পর আবিরের স্টক খালি করে দিয়ে তাঁরা অন্য রঙের ব্যবসায় মন দেন। কিন্তু এবার ছবিটা উল্টো। রঘুনাথবাবু জানালেন, "গত এক সপ্তাহে শুধু সবুজ আবিরেরই অর্ডার এসেছে কয়েকশো কুইন্টাল। বর্ধমান, মেদিনীপুর এবং উত্তর চব্বিশ পরগনার খুচরো বিক্রেতারা অগ্রিম টাকা দিয়ে স্টক বুক করে রাখছেন। তাঁদের ধারণা, ৪ তারিখের পর সবুজের আকাল দেখা দিতে পারে।" বাজারের এই তেজি ভাব দেখে অনেক ব্যবসায়ী আবার নতুন করে ওড়িশা বা উত্তরপ্রদেশ থেকে আবিরের লরি আনিয়েছেন।
ট্রেড অ্যানালিস্টদের মতে, আবিরের এই বিপুল বিক্রি আসলে এক ধরণের ‘সেন্টিমেন্টাল ইনভেস্টমেন্ট’। রাজনৈতিক দলগুলোর স্থানীয় ইউনিট বা নিচুতলার কর্মীরা হার-জিতের তোয়াক্কা না করেই জয়ের উৎসবের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করছেন। শিলিগুড়ির বিধান মার্কেটের ব্যবসায়ী কমল সাহার কথায়, "মার্কেটে এখন গেরুয়া আবিরের ডিমান্ডও বেশ শক্তিশালী। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলো থেকে যে পরিমাণ নগদ কেনাকাটা হচ্ছে, তা গত কয়েক বছরের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। তবে লাল আবিরের মার্কেটও নেহাত ফেলনা নয়।" ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে সেভাবে লাল আবির বিক্রি হয়নি এবার কেউ কেউ কিনছেন লাল আবির কিন্তু সংখ্যাটা অনেক কম।
পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক বা ঘাটালের আবির কারখানাগুলোতে এখন ওভারটাইম কাজ চলছে। কারখানা মালিকদের মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর এই আগাম মজুত করার প্রবণতা খুচরো বাজারে আবিরের দামও বাড়িয়ে দিয়েছে অনেকটা। দোলের সময় যে আবির ৮০-১০০ টাকা কিলো দরে বিক্রি হচ্ছিল, এখন তার দাম কোথাও কোথাও ১২০-১৫০ টাকা ছাড়িয়েছে। মুনাফার অংক দেখে খুশি ব্যবসায়ীরাও।
৪ মে ইভিএম মেশিন কী রায় দেবে তা সময় বলবে, কিন্তু আবিরের বাজারের এই গতিপ্রকৃতি বুঝিয়ে দিচ্ছে যে রাজনৈতিক দলগুলো ফলের ব্যাপারে কতটা আত্মবিশ্বাসী। ট্রেড মার্কেটের এই ট্রেন্ড কি সত্যিই জনমতের সঠিক প্রতিফলন, নাকি স্রেফ আবেগতাড়িত খরচ—তার উত্তর মিলবে সোমবার বেলা গড়ালেই। আপাতত আবিরের গন্ধে ম ম করছে বাজার, আর লাভের গুড় ঘরে তুলছেন ব্যবসায়ীরা।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।