govt-employees-
৬ই মে, ২০২৬
কলকাতা: চাকরি থাকবে তো?—এই একটাই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজ্যের পাঁচ লক্ষেরও বেশি চুক্তিভিত্তিক সরকারি কর্মীর মনে।
রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে প্রশাসনিক কাঠামোয় সম্ভাব্য রদবদলের জল্পনা ঘিরে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। শুধু দফতরের অস্থায়ী কর্মীই নন, সেই দুশ্চিন্তার তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছেন সিভিক পুলিশরাও।
রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দফতরে—পঞ্চায়েত, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুরসভা থেকে শুরু করে ব্লক ও জেলা প্রশাসনে—বছরের পর বছর ধরে কাজ করছেন এই বিপুল সংখ্যক কর্মী। কারও কাজ দশ বছর, কারও বা তারও বেশি। কিন্তু স্থায়ী পদ না থাকায় তাঁদের চাকরির ভিত বরাবরই নড়বড়ে। এতদিন কোনওভাবে পরিস্থিতি সামাল দিলেও, এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—সরকার বদলালে তাঁদের অবস্থান কোথায় দাঁড়াবে?
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই জোর জল্পনা, নতুন সরকার আগের নিয়োগ নীতির পর্যালোচনা করতে পারে। বিশেষ করে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে বড়সড় বদল আসতে পারে বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক মহলের একাংশ। আর সেই আশঙ্কাই আতঙ্ক বাড়াচ্ছে কর্মীদের মধ্যে। অনেকেই বলছেন, “বছরের পর বছর কাজ করছি, অথচ এক মুহূর্তে সব শেষ হয়ে যাবে নাকি?”
এই প্রেক্ষাপটে বিশেষভাবে উঠে আসছে সিভিক পুলিশের বিষয়টি। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এঁদের ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ। শহর কলকাতা থেকে শুরু করে জেলা শহর—সব জায়গাতেই ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে তাঁদের সক্রিয় উপস্থিতি চোখে পড়ে। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, এদের একটি বড় অংশই পূর্বতন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের ঘনিষ্ঠতার ভিত্তিতে নিয়োগ পেয়েছিলেন। সেই কারণেই সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে অন্য জায়গায়ও—যদি হঠাৎ করে এই বিপুল সংখ্যক সিভিক পুলিশকে বাদ দেওয়া হয়, তাহলে ট্রাফিক সামলাবে কে? ইতিমধ্যেই কলকাতা ও অন্যান্য ব্যস্ত শহরে যানবাহনের চাপ ক্রমশ বাড়ছে। সেই পরিস্থিতিতে সিভিক পুলিশ ছাড়া দৈনন্দিন ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেকের মতে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত যাই হোক, বাস্তব পরিস্থিতি মাথায় রেখে বিকল্প পরিকল্পনা না থাকলে সমস্যার জট আরও বাড়বে।
চুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থানের এই মডেল মূলত অস্থায়ী প্রয়োজন মেটানোর জন্য চালু হলেও, বাস্তবে তা সরকারি ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। বহু গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাই আজ এই কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল। তবুও তাঁদের বেতন কাঠামো, সামাজিক সুরক্ষা বা ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা—কোনোটাই স্পষ্ট নয়।
এই পরিস্থিতিতে কর্মী সংগঠনগুলিও সরব হতে শুরু করেছে। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একই কাজ করেও তাঁরা ন্যায্য মর্যাদা পান না। এখন যদি চাকরির নিরাপত্তাও প্রশ্নের মুখে পড়ে, তাহলে তা চরম অবিচার হবে। কেউ স্থায়ীকরণের দাবি তুলছেন, কেউ আবার অন্তত চাকরির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার নিশ্চয়তা চাইছেন।
অন্যদিকে, বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, নতুন সরকার প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াতে গেলে কিছু পরিবর্তন অনিবার্য। তবে সেই পরিবর্তনের ধাক্কা যাতে সরাসরি কর্মীদের জীবিকায় না লাগে, সে দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। কারণ এই বিপুল সংখ্যক কর্মীর ওপর নির্ভর করে রয়েছে লক্ষ লক্ষ পরিবারের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা।
সব মিলিয়ে, প্রশ্নটা এখন একটাই, চাকরি থাকবে তো? উত্তর এখনও অজানা। চুক্তিভিত্তিক কর্মী থেকে সিভিক পুলিশ—সবাই এখন তাকিয়ে নতুন সরকারের সিদ্ধান্তের দিকে। সেই সিদ্ধান্তই ঠিক করে দেবে, আগামী দিনে তাঁদের জীবনের গতিপথ কোন দিকে মোড় নেবে।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।