kolkata-road-
৪ঠা মে, ২০২৬
কলকাতা, ৪ মে: সকাল থেকেই যেন অন্য এক বাংলার ছবি। ভোট গণনার উত্তেজনায় গোটা রাজ্য কার্যত থমকে। শহর কলকাতা থেকে জেলা, মফস্বল—সব জায়গাতেই রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য। দোকানপাটের অধিকাংশই বন্ধ, মোড়ে মোড়ে বসে শুধু পুলিশ কর্মীরা।
কিন্তু এই নিস্তব্ধতার মাঝেও জীবনের চাকা থেমে নেই অনেকেরই। একাংশ মানুষ রয়েছেন, যাঁদের কাছে ভোট হোক বা গণনা—কাজই শেষ কথা। ভোরবেলা দুধের ডেলিভারি দেওয়া যুবক, কাগজওয়ালা, চায়ের দোকানদার, মাছ-মাংস-সবজি বিক্রেতা—সবাই নিজের মতো করে দিন শুরু করেছেন। পাশাপাশি অনলাইন খাবার পরিষেবা কিংবা বিভিন্ন সামগ্রীর ডেলিভারি কর্মীরাও ছুটে বেড়াচ্ছেন শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে।
সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের ক্ষেত্রে তো চাপ আরও বেশি। একের পর এক আপডেট পৌঁছে দিতে তাঁদের ব্যস্ততা তুঙ্গে। অন্যদিকে, বেসরকারি সংস্থার কর্মীদের অনেককেই এ দিন অফিসমুখী হতে দেখা গিয়েছে। ট্রেনেও ভিড় নজর কেড়েছে। তাঁদের সোজাসাপ্টা বক্তব্য, “ভোট হোক বা ভোটের গণনা—কাজ না করলে খাব কী!”

তবে কাজের ফাঁকেও তাঁদের চোখ কিন্তু টিভির পর্দায় কিংবা মোবাইল স্ক্রিনে। কার দখলে যাবে বাংলা—এই প্রশ্নেই এখন সকলের কৌতূহল। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও স্পষ্ট—সরকারে যে-ই আসুক, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে। কাজের খোঁজে রাজ্যের যুবকদের বাইরে পাড়ি দিতে না হয়, সেটাই কাম্য। এর পাশাপাশি আরও একটি বড় উদ্বেগ—ভোট-পরবর্তী হিংসা। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে অনেকেই চাইছেন, এ বার যেন কোনওভাবেই অশান্তির পুনরাবৃত্তি না ঘটে। তাঁদের মতে, উন্নয়নের প্রথম শর্তই শান্তি।
উল্লেখ্য, বাংলার ভোট মানেই অশান্তির আশঙ্কা—এই ধারণা বহুদিনের। তবে এবারের নির্বাচনে নজিরবিহীন কড়া নিরাপত্তার মধ্যে মোটের ওপর শান্তিপূর্ণভাবেই ভোটপর্ব সম্পন্ন হয়েছে। খুচরো অশান্তি ছাড়া বড় কোনও ঘটনা ঘটেনি। ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীও।
এ দিকে, বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত গণনার ট্রেন্ডে স্পষ্ট, হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে। কখনও এগিয়ে যাচ্ছে তৃণমূল, কখনও বা বিজেপি—একেবারে সাপ-লুডোর খেলার মতো ওঠানামা করছে ফলাফল। ভোট-পরবর্তী সমীক্ষার ইঙ্গিতও যেন এই টানটান লড়াইয়ের দিকেই ছিল। এ ছাড়াও নজর রয়েছে বামেদের দিকেও—তাঁদের ভোট শতাংশ বাড়ে কি না, তা নিয়েও কৌতূহল কম নয়।
সব মিলিয়ে, নিস্তব্ধতার আবরণে ঢাকা আজকের বাংলা—কিন্তু তার অন্তরে চলছে প্রবল রাজনৈতিক স্পন্দন। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা—কার হাতে উঠবে বাংলার শাসনভার আগামী পাঁচ বছরের জন্য।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।