২৭শে অক্টোবর, ২০২৬

info@thefourthaxis.in
header-ad
মস্তিষ্কে প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত: নিউরালিংকের অগ্রযাত্রা ও সম্ভাবনা

ব্রেন চিপের কল্পনা সত্যি! ছবি - Google

মস্তিষ্কে প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত: নিউরালিংকের অগ্রযাত্রা ও সম্ভাবনা

tfa logo icon

সংক্ষিপ্তসার

নিউরালিংকের ব্রেন-কম্পিউটার প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত

স্যামসাং হার্ডওয়্যার এবং অত্যন্ত উন্নত এক সার্জিক্যাল রোবটের সহায়তায় মস্তিষ্কের চিপের বৃহৎ উৎপাদনে যাচ্ছে নিউরালিংক। মস্তিষ্কের সুরক্ষামূলক পর্দা না কেটেই চিপ প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম এই রোবট। ইতিমধ্যে ২৬ জনেরও বেশি মানুষের ওপর সফল পরীক্ষার মাধ্যমে চিন্তাশক্তি দিয়ে হুইলচেয়ার চালানো ও মনের ভাবকে সরাসরি ভাষায় রূপান্তরের কাজ চলছে; প্রতিষ্ঠানটির পরবর্তী লক্ষ্য দৃষ্টিহীনদের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেওয়া।

মূল বিষয়

মানুষের ভাবনার সঙ্গে যন্ত্রের সরাসরি সংযোগ—একসময় যা কেবল কল্পবিজ্ঞান বা সিনেমার পর্দায় দেখা যেত, আজ তা বাস্তবের মাটিতে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। নিউরোলজি এবং আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে তৈরি 'ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেস' (বিসিআই) প্রযুক্তিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনছে ইলন মাস্কের সংস্থা নিউরালিংক। সাধারণ গবেষণাগার থেকে বেরিয়ে এবার বিপুল সংখ্যায় ব্রেন ইমপ্লান্ট বা চিপ তৈরির পথে এগোচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ও নিখুঁত এক অস্ত্রোপচার ব্যবস্থা, যা এই জটিল প্রক্রিয়াকে অনেক বেশি নিরাপদ ও দ্রুত করে তুলছে।

'নিউরালনট'দের বিস্তার ও দৈনন্দিন জীবনে সাফল্য

নিউরালিংকের প্রথম সফল মানব অস্ত্রোপচারের পর থেকে বিশ্বজুড়ে এই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পরিধি অনেকটাই বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ২৬ জনেরও বেশি মানুষ এই ট্রায়ালে অংশ নিয়েছেন, যাঁদের আদর করে ডাকা হচ্ছে 'নিউরালনট' (Neuralnaut)।

শুরুর দিকে পরীক্ষার মূল লক্ষ্য ছিল কেবল মনের ভাবনার সাহায্যে কম্পিউটারের কার্সার নাড়ানো বা গেম খেলা। তবে সময়ের সাথে সাথে এই 'এন১' (N1) ইমপ্লান্ট আরও বড় সাফল্য এনে দিয়েছে:

মনের নিয়ন্ত্রণে হুইলচেয়ার: অংশগ্রহণকারীরা কেবল ভাবনার মাধ্যমে ইলেকট্রিক হুইলচেয়ার নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছেন। মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম ব্যবহার করে তাঁদের মস্তিষ্কের সংকেত পড়ে মসৃণভাবে গতি নিয়ন্ত্রণ ও দিক পরিবর্তন করা সম্ভব হচ্ছে।

বাকশক্তি ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা: অ্যামায়োট্রফিক ল্যাটারাল স্ক্লেরোসিস (এএলএস)-এর মতো স্নায়ুরোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য এটি এক বিরাট আশার আলো। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এমন এক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা মুখের কোনো নড়াচড়া ছাড়াই মস্তিষ্কের চিন্তাকে সরাসরি কথায় রূপান্তর করতে পারে।

আরও পড়ুন
মানুষের মাথাতেই রয়েছে দুটি আলাদা মস্তিষ্ক?
চাঁদ ছিল শুক্রেরও! ‘গিলে’ ফেলেছিল নিজের উপগ্রহ
মোবাইল নয়, ঘুমের আসল শত্রু ‘আলো’!

অস্ত্রোপচারের বিপ্লব: 'ট্রান্সডুরাল' পদ্ধতি

যেকোনো ব্রেন ইমপ্লান্টের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জটিল অস্ত্রোপচার। সেই বাধা কাটাতেই নিউরালিংক সামনে এনেছে তাদের আধুনিক 'রেভ. ১০' (Rev. 10) সার্জিক্যাল রোবট। সাম্প্রতিক পরীক্ষাগুলোতে চিকিৎসকরা সফলভাবে 'ট্রান্সডুরাল' (Transdural) পদ্ধতিতে চিপ স্থাপন করেছেন।

সাধারণত প্রচলিত পদ্ধতিতে মস্তিষ্কের শক্ত বাইরের আবরণ বা 'ডুরা' (Dura) কেটে বাদ দিতে হতো, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াত। কিন্তু এই নতুন পদ্ধতিতে ডুরা পুরোপুরি অক্ষত রাখা হয়। রোবটটি ইনফ্রারেড ভিডিও অ্যাঞ্জিওগ্রাফি এবং অপটিক্যাল কোহেরেন্স টমোগ্রাফির মতো উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে ডুরার মধ্য দিয়েই রক্তনালীগুলো স্পষ্ট দেখতে পায়। ফলে কোনো রক্তনালীর ক্ষতি না করে ১,০২৪টি সূক্ষ্ম মাইক্রোস্কোপিক থ্রেড মস্তিষ্কের মোটর কর্টেক্সে স্থাপন করা সম্ভব হয়। এই কৌশলে অস্ত্রোপচারজনিত ট্রমা অনেকটাই কমে এবং অপারেশনের সময় নেমে এসেছে মাত্র চার থেকে পাঁচ ঘণ্টায়।

সাপ্লাই চেইনের শক্ত ভিত্তি ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন

উৎপাদনের গতি বাড়াতে এবং হার্ডওয়্যার সংক্রান্ত সংকট এড়াতে নিউরালিংক তাদের সাপ্লাই চেইনকে আরও মজবুত করেছে। জানা গেছে, তাদের চতুর্থ প্রজন্মের কাস্টম প্রসেসর তৈরির জন্য যুক্ত হয়েছে স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সের মতো বিশ্বমানের সংস্থা।

এর পাশাপাশি চিকিৎসাজগতে তীব্র আগ্রহ তৈরি হয়েছে নিউরালিংকের আসন্ন ডিভাইস 'ব্লাইন্ডসাইট' (Blindsight) ঘিরে। সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন ব্যক্তিদের দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে এটি তৈরি হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত চোখ বা অপটিক নার্ভকে পাশ কাটিয়ে এই যন্ত্রটি সরাসরি মস্তিষ্কের ভিজ্যুয়াল কর্টেক্সকে উদ্দীপ্ত করবে, যার মাধ্যমে আলো ও প্রাথমিক আশপাশের পরিবেশ উপলব্ধি করা সম্ভব হবে। এখনো মানুষের ওপর এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পুরোপুরি শুরু না হলেও, বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার দৃষ্টিহীন মানুষ ইতিমধ্যেই নিজেদের নাম নথিভুক্ত করেছেন।

উপসংহার

চিকিৎসাবিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই অনন্য মেলবন্ধন কেবল শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করার হাতিয়ার নয়, এটি মানুষের সম্ভাবনার সীমাকেও নতুন করে সংজ্ঞায়িত করছে। পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তির নিজের পায়ে ফেরার স্বপ্ন কিংবা দৃষ্টিহীনের আলো দেখার আশা—সবকিছুতেই নিউরালিংক এক নতুন ভোরের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এই প্রযুক্তি সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে কতটা নিরাপদ এবং কতটা সহজলভ্য হবে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য