

ছবি - Google
১২ই আগস্ট, ২০২৬
২০২৭ সালের জাতীয় জনশুমারি (Census 2027) কর্মসূচির প্রথম পর্ব অর্থাৎ ‘হাউসলিস্টিং অ্যান্ড হাউজিং সেন্সাস’ (HLO)-এর আওতায় পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিক স্ব-গণনা বা ‘সেলফ-এনুমারেশন’ (Self-Enumeration) প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ১ আগস্ট বিধাননগরে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই অনলাইন স্ব-গণনা ব্যবস্থার শুভ সূচনা করেন।
স্ব-গণনা ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হল নাগরিক সংযোগ বৃদ্ধি করা এবং সম্পূর্ণ তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতিকে আরও বেশি সহজ, দ্রুত ও পরিবেশবান্ধব করে তোলা।
সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান যে, জনশুমারি পরিচালনা করার বিষয়টি ভারতের সংবিধান নির্দেশিত একটি জাতীয় দায়িত্ব। তিনি বলেন, “রাজ্য সরকার নিজস্বভাবে আলাদা কিছু করবে না। সেন্সাস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (Census Authority of India) যে নির্দেশিকা ও নিয়মাবলী জারি করেছে, তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করাই আমাদের মূল দায়িত্ব। এটি একটি সাংবিধানিক কর্তব্য এবং পুরো দেশজুড়েই এই একই নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে।”
রাজ্যের নাগরিকেরা ১ আগস্ট থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত সরকারি নির্দিষ্ট পোর্টাল se.census.gov.in-এ প্রবেশ করে সরাসরি নিজেদের পরিবারের তথ্য জমা দিতে পারবেন।
রেজিস্ট্রেশন: পোর্টালে ঢুকে নিজের রাজ্য নির্বাচন করে পরিবারের প্রধানের নাম ও মোবাইল নম্বর দিতে হবে। এরপর মোবাইলে আসা ওটিপি (OTP)-র মাধ্যমে যাচাই সম্পন্ন করে পছন্দের ভাষা বেছে নেওয়া যাবে।
ম্যাপে অবস্থান চিহ্নিতকরণ: জেলা, পিন কোড, গ্রাম বা শহর এবং নিকটবর্তী ল্যান্ডমার্কের নাম লিখে অনুসন্ধান করে ম্যাপের ওপর সঠিক বাসস্থান চিহ্নিত করতে হবে।
প্রশ্নাবলী পূরণ: বাসস্থানের অবস্থান নিশ্চিত হলে একটি ৩৩টি প্রশ্নের বিস্তৃত ফর্ম খুলবে। সেখানে বাসস্থান, পরিবারের সদস্য সংখ্যা, তাঁদের শিক্ষা, পেশা, জীবনযাত্রার মান, ব্যবহৃত সুবিধাদি এবং সম্পদের বিবরণ দিতে হবে।
ড্রাফট ও প্রিভিউ ব্যবস্থা: তথ্য সম্পূর্ণ দেওয়ার পর 'প্রিভিউ' অপশন থেকে তা ভালোভাবে দেখে নিয়ে সংশোধন করার সুযোগ রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে জমা দিতে না চাইলে তা 'ড্রাফট' হিসেবেও সেভ রাখা যাবে।
সম্পূর্ণ ফর্মটি সফলভাবে পূরণ করে 'ফাইনাল সাবমিট' করার পর আর কোনো পরিবর্তন করা যাবে না। চূড়ান্ত আবেদনের পর সাথে সাথেই তৈরি হবে ১১ ডিজিটের একটি অনন্য 'সেলফ-এনুমারেশন আইডি' (SE ID), যার সূচনা হবে 'H' অক্ষর দিয়ে।
এই আইডি নম্বরটি রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে এসএমএস এবং ইমেলের মাধ্যমেও পাঠানো হবে। কোনো কারণে এটি হারিয়ে গেলে রেজিস্টার্ড নম্বর দিয়ে পোর্টাল থেকে আবার তা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। মাঠপর্যায়ের গণনাকারীদের পরিদর্শনের সময় এই আইডিটি দেখাতে হবে। পুরো অনলাইন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে।
অনলাইন স্ব-গণনার এই ১৫ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার পরপরই ১৭ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু হবে। প্রশিক্ষিত এনুমারেটর বা গণনাকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অনলাইনে দেওয়া তথ্য যাচাই ও নিশ্চিত করবেন।
উল্লেখ্য, তামিলনাড়ু ও ত্রিপুরায় গত ৩১ জুলাই থেকে অনলাইন স্ব-গণনা চালু হয়েছিল। ইতোমধ্যে দেশের ২৯টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে প্রথম পর্বের গণনার প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ হয়েছে।
ঝামেলাহীন ও নির্ভুল তথ্য নিশ্চিতে রাজ্যবাসীকে এই নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে স্ব-গণনা সুবিধা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।
