

প্রতীকী ছবি - AI
৩রা আগস্ট, ২০২৬
মদের দোকানে গিয়ে ওয়াইনের বোতলের দিকে তাকালেই একটা প্রশ্ন অনেকের মনেই জাগে- বেশিরভাগ ওয়াইনের বোতল ১ লিটারের না হয়ে কেন ঠিক ৭৫০ মিলিলিটারেরই হয়? বিশ্বজুড়ে প্রায় সব দেশেই ওয়াইন বিক্রির ক্ষেত্রে এই ৭৫০ মিলি মাপটিই যেন এক অলিখিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এর পেছনের রহস্যটা ঠিক কী? উত্তর লুকিয়ে রয়েছে ইতিহাস, পুরনো বাণিজ্য পদ্ধতি এবং মানুষের শারীরবৃত্তীয় কিছু অভ্যাসের মধ্যে।
গবেষক ও ইতিহাসবিদদের মতে, এই ৭৫০ মিলির মাপটি মূলত এসেছে প্রাচীনকালের কাচশিল্পীদের ফুসফুসের ক্ষমতা থেকে। যখন যন্ত্রের সাহায্য ছাড়া হাতে ফুঁ দিয়ে কাচের বোতল তৈরি করা হত, তখন একজন কাচশিল্পী এক নিঃশ্বাসে গলানো কাচে যতটা বাতাস ভরতে পারতেন, তাতে প্রায় ৭৫০ মিলিলিটারের মতো ধারণক্ষমতার বোতল তৈরি হত। এছাড়া সামাজিক দিক থেকেও দেখা গেছে, সাধারণ একজন মানুষের রাতের খাবারের সঙ্গে চার থেকে ছয় গ্লাস, অর্থাৎ প্রায় ৭৫০ মিলি ওয়াইনই যথেষ্ট বলে মনে করা হতো।
তবে বাণিজ্যিক দিকটি বিবেচনা করলে এর পেছনে রয়েছে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের ঐতিহাসিক ওয়াইন ব্যবসার বড় ভূমিকা। এককালে ফ্রান্সের বোর্দো অঞ্চল থেকে প্রচুর ওয়াইন রফতানি হতো ইংল্যান্ডে। ফরাসিরা পরিমাপের জন্য লিটার ব্যবহার করলেও ব্রিটিশরা চলত 'ইম্পেরিয়াল গ্যালন' মাপে। হিসাব নিকাশ সহজ করতে দেখা গেল, ১ ইম্পেরিয়াল গ্যালন (প্রায় ৪.৫ লিটার) ওয়াইনকে সমান ৬টি বোতলে ভাগ করলে প্রতিটি বোতলের মাপ দাঁড়ায় ঠিক ৭৫০ মিলিলিটার। এই পরিমাপ দুই দেশের ব্যবসায়ীদের জন্যই দরদাম ও হিসাব রাখা অনেক সহজ করে তুলেছিল।
শুধু ইতিহাস বা ব্যবসা নয়, ওয়াইন দীর্ঘদিন ভালো রাখার পেছনেও এই ৭৫০ মিলির এক বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। বোতলের মুখের ছিপির নিচে যতটুকু খালি জায়গা বা বাতাস থাকে, তার সঙ্গে মদের পরিমাণের একটি বৈজ্ঞানিক ভারসাম্য প্রয়োজন হয়। ৭৫০ মিলির বোতলে ওয়াইন ধীরে ধীরে এবং সঠিকভাবে পরিপক্ক (Aging) হতে পারে। ছোট বোতলে বাতাসের অনুপাত বেশি থাকায় মদ দ্রুত নষ্ট বা স্বাদ পরিবর্তন হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সব মিলিয়ে প্রাচীন ঐতিহ্য, আন্তর্জাতিক ব্যবসার সুবিধে আর বিজ্ঞানের মেলবন্ধনেই আজকের দিনেও ৭৫০ মিলিলিটারের বোতল বিশ্বজুড়ে ওয়াইনের এক সার্বজনীন প্রতীক হয়ে টিকে রয়েছে।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।
