১৩ই জুন, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

অতীত যাই হোক না কেন, ‘জিততে পারে’ এমন প্রার্থীই শেষ কথা! হলফনামায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

যাঁদের হাতে আইন তৈরির দায়িত্ব তুলে দেওয়ার কথা, তাঁদের অনেকের হাতেই রক্তের দাগ লেগে থাকার অভিযোগ!

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা সামনে এসেছে। উঠে আসছে শিউরে ওঠার মত তথ্য। যাঁদের হাতে আইন তৈরির দায়িত্ব তুলে দেওয়ার কথা, তাঁদের অনেকের হাতেই রক্তের দাগ লেগে থাকার অভিযোগ! গুরুতর অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত প্রায় প্রতিটি দলেরই বেশ কিছু প্রার্থী।

অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (এডিআর)-এর রিপোর্ট অনুসারে ১৪৭৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩৪৫ জন অর্থাৎ প্রায় প্রতি চার জনে একজনের বিরুদ্ধে রয়েছে অভিযোগ ! প্রার্থীরা নিজের মুখেই স্বীকার করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২৯৪ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ। সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো তথ্য, ১৯ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে সরাসরি খুনের অভিযোগ! খুনের চেষ্টার অভিযোগে ১০৫ জন।

অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (এডিআর)-এর রিপোর্ট

নারী সুরক্ষার নামে রাজনৈতিক দলগুলোর উচ্চকিত স্লোগানও কার্যত ভেঙে পড়েছে এই পরিসংখ্যানে। ৯৮ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে মহিলাদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ, যার মধ্যে ৬ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা।

নিজেদের ‘পার্টি উইথ আ ডিফারেন্স’ বলে দাবি করা বিজেপিই ‘দাগি’ প্রার্থী দেওয়ার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে। ১৫২ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০৬ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা! গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ৯৬ জন। অর্থাৎ, প্রতি তিন জনে দু’জনই ‘দাগি’!

অন্য দলগুলোর অবস্থাও খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। সিপিআই(এম), তৃণমূল, কংগ্রেস— সকলের তালিকাতেই রয়েছে একাধিক অভিযুক্ত নাম। শতাংশের হেরফের থাকলেও, ছবিটা সর্বত্রই প্রায় এক। ‘জিততে পারে’ এমন প্রার্থীই শেষ কথা, তাঁর অতীত যাই হোক না কেন।যদিও দলগুলোর বক্তব্য, “সবই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা”।

ভোটারদের হাতে রয়েছে তথ্য, চোখের সামনে প্রার্থীদের ‘অপরাধের খতিয়ান’। প্রতীকের মোহ না গণতন্ত্র? শেষ হাসি কে হাসবে তার উত্তর জানতে 4 মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে৷ তার ভিতরেই লুকিয়ে আছে বাংলার ভবিষ্যৎ।

মহিলা আসন সংরক্ষণ আইন: আজ, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, শুক্রবার, বিকেল ৪টেয় লোকসভায় তিনটি বিলের ওপর ভোটাভুটি

মহিলা আসন সংরক্ষণ আইন সংশোধন এবং সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে আনা তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে আজ, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, শুক্রবার উত্তাল হয়ে উঠতে পারে লোকসভা। দীর্ঘ ১২ ঘণ্টার ম্যারাথন বিতর্ক শেষে আজ বিকেল ৪টেয় এই বিলগুলির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য ভোটাভুটি হওয়ার কথা। এই বিলগুলির মধ্যে রয়েছে সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল ২০২৬, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল ২০২৬ এবং সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন বিল ২০২৬।

বিলের মূল লক্ষ্য ও মহিলা আসন সংরক্ষণ

কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল বৃহস্পতিবার এই বিলগুলি পেশ করেন। প্রস্তাবিত এই আইন পাস হলে লোকসভার আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই মহিলা সংরক্ষণের বিষয়টি বাস্তবায়িত করার পথ প্রশস্ত হবে। যদিও বিরোধী পক্ষ শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছিল, তবে ভোটাভুটির পর সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বিলগুলি আলোচনার জন্য গৃহীত হয়।

দক্ষিণের রাজ্যগুলির আশঙ্কা ও কেন্দ্রের আশ্বাস

বিতর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির ভবিষ্যৎ। ডিএমকে নেতা এ রাজা এবং কংগ্রেস সাংসদ মানিকাম টেগোরের মতো বিরোধী নেতাদের দাবি, বর্তমান আকারে এই বিল পাস হলে উত্তর ভারতের তুলনায় তামিলনাড়ু, কেরালা বা তেলেঙ্গানার মতো রাজ্যগুলি আনুপাতিকভাবে লোকসভায় তাদের প্রভাব হারাবে। যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আশ্বস্ত করে বলেছেন, আসন সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়লেও দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির অংশীদারিত্ব আনুপাতিকভাবে বৃদ্ধি পাবে।

বিরোধী শিবিরের তোপ ও জাতিভিত্তিক জনগণনার দাবি

অন্যদিকে, আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এবং অখিলেশ যাদবের মতো নেতারাও সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। মিম প্রধান ওয়াইসির মতে, এই আইন পাস হলে সংসদে বিরোধীদের কণ্ঠস্বর পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে যাবে। সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদব প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপির নারী ক্ষমতায়নের সদিচ্ছা নিয়ে। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি নারীদের শুধু একটি রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করছে। পাশাপাশি জাতিভিত্তিক জনগণনা কেন এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর আর্জি ও সংসদীয় রাজনীতির মোড়

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অবশ্য সব বিরোধী দলকে এই বিল সমর্থনের আর্জি জানিয়েছেন। তিনি রসিকতা করে বলেন, বিরোধীরা এই বিলের বিরোধিতা করলে আসলে তাঁরই রাজনৈতিক লাভ হবে। সব মিলিয়ে, ১২ ঘণ্টার এই দীর্ঘ বিতর্কের পর আজকের ভোটাভুটি ভারতীয় সংসদীয় রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

মুখোমুখি হেভিওয়েটরা ! স্নায়ুযুদ্ধের শীর্ষে রাজ্যের সাত হাই-প্রোফাইল কেন্দ্র

বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের একাধিক কেন্দ্রে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। তবে আবেগ বা প্রচারের বাইরে, এই কেন্দ্রগুলিকে ‘হটস্পট’ করে তুলেছে নির্দিষ্ট কিছু তথ্য, ভোটের অঙ্ক ও অতীত ফলাফল। সেই নিরিখেই সাতটি গুরুত্বপূর্ণ আসনের চিত্র

ভবানীপুর (কলকাতা): তৃণমূলের ঘাঁটি, তবু চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত

প্রার্থী: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (তৃণমূল), শুভেন্দু অধিকারী (বিজেপি), শ্রীজীব বিশ্বাস (সিপিআইএম)
২০২১ উপনির্বাচনে প্রায় ৫৮ হাজার ভোটে জয় পান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
কেন্দ্রটিতে উল্লেখযোগ্য অবাঙালি ভোটার (বিশেষত মারওয়ারি-গুজরাতি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়)
সাম্প্রতিক ভোটার তালিকা সংশোধনে হাজার হাজার নাম বাদ পড়ার অভিযোগ
ফ্যাক্টর: সংগঠিত তৃণমূল ভোটব্যাঙ্ক বনাম সম্ভাব্য বিজেপি-সমর্থিত অবাঙালি ভোট

নন্দীগ্রাম (পূর্ব মেদিনীপুর): অল্প ব্যবধানের লড়াইয়ের পুনরাবৃত্তি

প্রার্থী: পবিত্র কর (তৃণমূল), শুভেন্দু অধিকারী (বিজেপি), শান্তি গিরি (সিপিআই)
২০২১ সালে ১,৯৫৬ ভোটে জয় পান শুভেন্দু অধিকারী
২০০৭ সালের আন্দোলনের পর থেকেই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা
গ্রামীণ ভোটের মধ্যে মুসলিম ও কৃষিজীবী ভোটারদের প্রভাব উল্লেখযোগ্য
ফ্যাক্টর: ব্যক্তিগত প্রভাব বনাম সংগঠন, গ্রামীণ ভোটের মেরুকরণ

পানিহাটি (উত্তর ২৪ পরগনা): আবেগের রাজনীতি বনাম দলীয় কাঠামো

প্রার্থী: তীর্থঙ্কর ঘোষ (তৃণমূল), রত্না দেবনাথ (বিজেপি), কলতান দাশগুপ্ত (সিপিআইএম), শুভাশিস ভট্টাচার্য (কংগ্রেস)
শহরতলির কেন্দ্র, যেখানে মধ্যবিত্ত ও কর্মজীবী ভোটার সংখ্যা বেশি
আরজি কর ঘটনার পর বিক্ষোভের প্রভাব এখনও বজায়
চারকোণা লড়াইয়ের সম্ভাবনা
ফ্যাক্টর: সহানুভূতির ভোট বনাম সংগঠিত তৃণমূল ভোটব্যাঙ্ক

কালীগঞ্জ (নদিয়া): উপনির্বাচনের ছায়া, সংঘর্ষের স্মৃতি

প্রার্থী: আলিফা আহমেদ (তৃণমূল), বাপন ঘোষ (বিজেপি), সাবিনা ইয়াসমিন (সিপিআইএম), কবিল উদ্দিন শেখ (কংগ্রেস)
২০২৫ উপনির্বাচনের সময় সহিংসতার অভিযোগ ও শিশুমৃত্যু
মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা, যেখানে সংখ্যালঘু ভোট নির্ণায়ক
একই ঘটনার দুই বিপরীত পক্ষ এবার ভোটমুখী
ফ্যাক্টর: সহানুভূতি বনাম তৃণমূলের সংগঠন ও সংখ্যালঘু ভোট

উত্তরপাড়া (হুগলি): পালাবদলের ইতিহাস, ত্রিমুখী সমীকরণ

প্রার্থী: শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় (তৃণমূল), দীপাঞ্জন চক্রবর্তী (বিজেপি), মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় (সিপিআইএম)
একসময় বামফ্রন্টের শক্ত ঘাঁটি, গত কয়েক দফায় তৃণমূলের দখলে
শিল্পাঞ্চল হওয়ায় শ্রমিক ও মধ্যবিত্ত ভোট গুরুত্বপূর্ণ
বামেদের পুনরুত্থানের চেষ্টা স্পষ্ট
ফ্যাক্টর: বাম ভোটের পুনরুদ্ধার বনাম তৃণমূলের সংগঠন

বহরমপুর (মুর্শিদাবাদ): কংগ্রেসের মর্যাদার পরীক্ষা

প্রার্থী: নাড়ুগোপাল মুখার্জী (তৃণমূল), সুব্রত মৈত্র (বিজেপি), আবুল কাশেম শেখ (সিপিআই(এমএল)), অধীর রঞ্জন চৌধুরী (কংগ্রেস)
মুর্শিদাবাদে ঐতিহ্যগতভাবে কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি
২০২৪ লোকসভায় অধীর চৌধুরীর পরাজয় গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট
সংখ্যালঘু ভোট এখানে বড় ফ্যাক্টর
ফ্যাক্টর: ব্যক্তিগত প্রভাব বনাম তৃণমূলের বিস্তার

কোন সমীকরণ কোথায়?

হেভিওয়েট বনাম হেভিওয়েট: ভবানীপুর, নন্দীগ্রাম
আবেগ বনাম সংগঠন: পানিহাটি, কালীগঞ্জ
ঐতিহ্য বনাম পরিবর্তন: উত্তরপাড়া, বহরমপুর
এই কেন্দ্রগুলিতে ফল নির্ভর করবে মূলত তিন বিষয়ের উপর—প্রার্থীর ব্যক্তিগত প্রভাব, ভোটব্যাঙ্কের মেরুকরণ, সংগঠনের শক্তি! এখন দেখার এই সাত “হাই-প্রোফাইল’ কেন্দ্র থেকে কারা শেষ হাসি হাসেন!

ধোঁয়ার চাদরে ঢাকা শহর ! কলকাতার বায়ুদূষণের দায় নেবে কে?

কলকাতা: তাপমাত্রা নেমে গেলেই শহরের আকাশ ধোঁয়ার আস্তরণে ঢেকে যায়। ভোরে ছাদে দাঁড়ালে দূরের বহুতল মিলিয়ে যায় কুয়াশা-দূষণের মিশেলে। গলায় জ্বালা, চোখে অস্বস্তি, এসব দৃশ্য এখন আর ব্যতিক্রম নয়, নিত্যদিনের অভিজ্ঞতা। ভোট এলেই বদলে যায় কথার সুর, বাড়ে প্রতিশ্রুতির ঝড়। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, এই দূষণের বিরুদ্ধে আদৌ কি কোনও দীর্ঘমেয়াদি, কার্যকর পরিকল্পনা আছে?

দূষণের জটিল চক্রে শহর
পরিবেশবিদদের মতে, কলকাতার বায়ুদূষণের উৎস বহুস্তরীয়। শহরের রাস্তায় প্রতিদিন লক্ষাধিক যানবাহনের চলাচল, তার মধ্যে বিপুল সংখ্যক পুরনো ডিজেলচালিত বাস ও ট্রাক দূষণের অন্যতম কারণ। তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নির্মাণস্থলের ধুলো, ইটভাটার ধোঁয়া এবং আশপাশের শিল্পাঞ্চলের নির্গমন। ফলে বায়ুর গুণমান সূচক (AQI) প্রায়শই ‘খারাপ’ থেকে ‘অতিমাত্রায় খারাপ’ স্তরে পৌঁছে যাচ্ছে।

শুধু বায়ু নয়, বহুমাত্রিক চাপ
বায়ুদূষণের পাশাপাশি জল ও শব্দ দূষণও বাড়ছে। গঙ্গায় শিল্পবর্জ্য ও নিকাশি জলের প্রভাব বাড়ছে। অন্যদিকে, শহরের ব্যস্ত মোড়ে শব্দের মাত্রা অনেক সময় নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে পরিবেশের উপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে।

সরকারি পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন
প্রশাসনের দাবি—পুরনো যান তুলে দেওয়া, বৈদ্যুতিক বাস চালু, সবুজায়ন বৃদ্ধি, ‘গ্রিন করিডর’ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তিতে দূষণ পর্যবেক্ষণের কথাও বলা হচ্ছে। তবে বাস্তবে এখনও কালো ধোঁয়া ছড়ানো যানবাহন ও নিয়ন্ত্রণহীন নির্মাণস্থল নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

বিরোধীদের পাল্টা সুর
বিরোধীদের অভিযোগ, ঘোষণার তুলনায় বাস্তবায়ন কম। তাঁদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া সমস্যার সমাধান অসম্ভব। পরিবহণ, শিল্প দূষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা—সব ক্ষেত্রেই সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। বিশেষজ্ঞরা অঞ্চলভিত্তিক ‘ক্লিন এয়ার’ নীতির কথাও বলছেন।

ভোটে ‘সবুজ’ প্রতিশ্রুতির ঢেউ
নির্বাচন যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে প্রতিশ্রুতি। ১০০% বৈদ্যুতিক বাস, নতুন সবুজ অঞ্চল, উন্নত দূষণ পরিমাপ প্রযুক্তি—বিভিন্ন দাবি সামনে আসছে। কিন্তু ভোটের পর সেগুলি বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিয়েই সংশয়।

নাগরিক উদ্যোগ ও গবেষণার ভূমিকা
সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। SwitchON Foundation দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছে। অন্যদিকে Centre for Science and Environment নিয়মিত গবেষণা ও রিপোর্টের মাধ্যমে দূষণের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরছে। এই সংস্থাগুলির তথ্য ও বিশ্লেষণ অনেক সময় প্রশাসনের উপর চাপ তৈরি করে এবং নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে
চিকিৎসকদের মতে, দূষণের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে শিশু ও বয়স্কদের উপর। হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস, হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে। ফলে এটি শুধু পরিবেশগত নয়, জনস্বাস্থ্যের বড় সঙ্কট।

ভবিষ্যতের প্রশ্ন
কলকাতার সামনে তাই বড় প্রশ্ন—এই শহর কি আবার স্বচ্ছ বাতাস ফিরে পাবে? না কি ধোঁয়ার আড়ালেই ঢেকে যাবে তার ভবিষ্যৎ? রাজনীতি, প্রশাসন এবং নাগরিক সচেতনতা—এই তিনের সমন্বয়েই হয়তো মিলতে পারে উত্তর। ততদিন পর্যন্ত, শহরবাসীর শ্বাস নেওয়ার লড়াই চলতেই থাকবে।

লোকসভা আসন পুনর্নির্ধারণ: বিপাকে দক্ষিণী রাজ্যগুলো, বড়সড় পরিবর্তনের পথে সংসদ?

সংসদের বিশেষ অধিবেশনে তিনটি নতুন বিল ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। মোদী সরকারের প্রস্তাবিত ‘মাদার বিল’ অনুযায়ী, লোকসভার আসন সংখ্যা বেড়ে হতে পারে ৮১৫। কিন্তু বির্তকের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো—এই আসন বিন্যাসের ভিত্তি হিসেবে ধরা হচ্ছে ২০১১ সালের পুরনো আদমশুমারির তথ্যকে।

কেন এই ক্ষোভ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর ভারতের হিন্দি বলয়ের রাজ্যগুলোতে (যেমন উত্তরপ্রদেশ, বিহার) জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অনেক বেশি। অন্যদিকে, দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতার মাধ্যমে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে। যদি নতুন আসন সংখ্যা জনসংখ্যার অনুপাতে নির্ধারিত হয়, তবে হিন্দি বলয়ের ৬টি রাজ্যের আসন সংখ্যা ১৯৫ থেকে বেড়ে ৩২৮ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্টোদিকে, দক্ষিণের ৫টি রাজ্যের আসন বাড়বে সামান্যই। এর ফলে লোকসভায় দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর রাজনৈতিক গুরুত্ব ও প্রভাব এক ধাক্কায় অনেকটা কমে যাবে। বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের মতে, সংসদের বিশেষ অধিবেশনে লোকসভা আসন পুনর্নির্ধারণের (Delimitation) যে প্রস্তাব পেশ হতে চলেছে, তা আসলে দেশকে বিভক্ত করার জন্য আরএসএস-চালিত বিজেপি সরকারের আরও একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। উন্নত মানব উন্নয়ন সূচক (HDI) এবং ফলস্বরূপ বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করার কারণে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোকে কোণঠাসা করা হচ্ছে। এই ডিলিমিটেশনের আড়ালে হিন্দুত্ববাদের প্রভাবে থাকা উত্তর ভারতের এলাকাগুলোতে লোকসভা আসনের সংখ্যা বাড়িয়ে নেওয়া হবে।

বিরোধীদের অবস্থান

তামিলনাড়ু ও কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রীরা ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাবকে ‘যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর আঘাত’ বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁদের মতে, ভালো জনতাত্ত্বিক পারফরম্যান্সের জন্য দক্ষিণের রাজ্যগুলোকে পুরস্কৃত করার বদলে উল্টে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। বিরোধী দলগুলো যদি একজোট হয়ে এই বিলের বিরোধিতা করে, তবেই এই পরিবর্তন আটকানো সম্ভব। কারণ সংবিধান সংশোধনী বিল পাশের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। একদিকে মহিলাদের আসন সংরক্ষণের দোহাই দিয়ে সংসদের আকার বাড়ানোর তোড়জোড় চলছে, অন্যদিকে এটি ভারতের গণতান্ত্রিক ভারসাম্যকে নষ্ট করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নব বর্ষের শুরুতেই ট্রফিতে চোখ বাগানের, লাল হলুদে ঘুরে দাঁড়ানোর জেদ

নববর্ষে মিষ্টিমুখ সমর্থকদের

সেই কবে থেকে প্রথা চালু, বাংলা নব বর্ষের দিন ময়দানে বার পুজো ও মিষ্টি বিতরনের উৎসব। এবারও তার অন্যথা হয়নি।

শত্রুও আজ মিত্র!

বুধবার সকাল থেকেই কলকাতা ময়দানে ছোট বড় মেজ ক্লাবের কর্তাদের মুখে নির্মল হাসি। এদিন আর কোনও মলিনতা নেই, নেই কোনও বিভেদ। বরং শত্রুও আজ মিত্র! ময়দানে এমন কিছু ক্লাব আছে যাদের অস্তিত্ব কোনও রকমে টিকে আছে। সেই ক্লাবের কর্তারাও আজ কোনও হিসেব নয়, বরং যারাই তাঁদের ক্লাবে এসেছে সকলকে মিষ্টি মুখ করিয়েছেন। এটাই সার্থকতা খেলার।

প্রবল তাপপ্রবাহেও তুমুল আবেগ

বাংলায় এবার ভোটের উত্তাপ রয়েছে। আর কিছুদিন পরেই বিধানসভা নির্বাচন হবে। কিন্তু এপ্রিলের শুরু থেকেই যেভাবে তাপ প্রবাহ বৃদ্ধি হচ্ছে সেটাও চিন্তার কারণ। কিন্তু সেই গরমকে উপেক্ষা করে সাত সকালেই মাঠে হাজির ফুটবল সমর্থকরা। মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গলে উৎসাহ উদ্দীপনা বেশি থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু সুপার ডিভিশনের অন্য ক্লাবগুলিতেও আবেগের অন্ত নেই।  মোহনবাগান ক্লাবে সভাপতি দেবাশিস দত্ত এবং সচিব সৃঞ্জয় বসু পুজোর পরে নারকেল ফাটিয়ে নতুন মরশুম শুরুর ডাক দিয়েছেন। সৃঞ্জয় বসু জানিয়েছেন, আইএসএল খেতাব জয় এবারও আমাদের লক্ষ্য। কিন্তু চাই সার্বিকভাবে বাংলার ফুটবল এগিয়ে যেতে পারে। মোহনবাগান ক্লাবে এসেছিলেন বউবাজার এলাকার কাউন্সিলর এবং বেঙ্গল অলিম্পিক সংস্থার সহ সভাপতি বিশ্বরূপ দে।

ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে কল্যাণ

ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে হাজির ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবে। একদা তিনি লাল হলুদ জার্সি গায়ে গোলপোস্টের নিচে দুর্ভেদ্য ছিলেন। সেই মাঠে প্রবেশ করে আবেগ বিহ্বল কল্যাণ। তাঁকে দেখা গিয়েছে ক্লাবের নামী কর্তা দেবব্রত সরকারের সঙ্গে সারা মাঠ প্রদক্ষিণ করছেন। লাল হলুদ ক্লাবেও ভালবাসার চাদরে ঢেকে দিয়েছেন সমর্থকরা। আইএসএল ম্যাচে আবারও ছন্দে ফেরার চেষ্টায় ইস্টবেঙ্গল। বার পুজো শেষে কর্তা থেকে সমর্থকদের ফুটবল দেবতার কাছে প্রার্থনা, এবার অন্তত ট্রফি আসুক আমাদের ক্লাবে।

মোহনবাগানের সৃঞ্জয় আবার ভবানীপুর ক্লাবেরও শীর্ষ কর্তা। তিনি নিজের পারিবারিক ক্লাবেও এসে পুজোর তদারকি করেছেন। ছিলেন তাঁর ছায়া সঙ্গী বাপ্পা ঘোষ। সেখানেও দেদার মিষ্টি দই খাওয়ানো হয়েছে সবাইকে।

বাঁদিক থেকে সৃঞ্জয় বসু, সৌমিক বসু এবং দেবাশিস দত্ত
নববর্ষে মিষ্টিমুখ!বাঁদিক থেকে সৃঞ্জয় বসু, সৌমিক বসু এবং দেবাশিস দত্ত। মোহনবাগান ক্লাবে। ছবি: Google

ছোট ক্লাবেও দেদার উৎসব

পিছিয়ে নেই ময়দানের অন্য দুই ঐতিহ্যবাহী ক্লাব হাওড়া ইউনিয়ন এবং জর্জ টেলিগ্রাফ স্পোর্টস ক্লাবও। তাদের ক্লাবে সকালে বারপুজো শেষে সবাই মিলে দেদার আড্ডা এবং আগামী মরশুমে আরও কী করলে ভাল করা যায় সেই নিয়ে আলোচনা হয়েছে। হাওড়া ইউনিয়ন ক্লাবের দুই নামী কর্তা অনির্বাণ দে এবং দেবরাজ দে জানিয়েছেন, এইদিন আমরা ক্লাবের সবাই মিলে বসে খাওয়া দাওয়া করে ফুটবল নিয়ে আলোচনায় মাতি। এই উৎসব আমাদের মাঠের কর্তাদের কাছে পরম পাওয়া। এই উৎসব চিরন্তন হয়ে থাকবে। পাশাপাশি জর্জ টেলিগ্রাফ স্পোর্টস ক্লাবের কর্তা তথা আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত এবং অধিরাজ দত্তরা হাজির থেকে ক্লাবের এই বিশেষ আবহের দিনে বাংলা ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

শহরে ফের ‘ভাইরাল আতঙ্ক’! গলা ব্যথা, শুকনো কাশি—নতুন উপসর্গে চিন্তা বাড়াচ্ছে জ্বর

করোনা মহামারীর ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার পরই শহরে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে ভাইরাল জ্বরের প্রকোপ। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই জ্বরের বিস্তার নতুন কিছু নয়, তবে এ বার উপসর্গের বদল এবং দ্রুত সংক্রমণের হার উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

উপসর্গ

ভাইরাসের স্বভাবই হল সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলে নেওয়া। সেই কারণে আগের পরিচিত উপসর্গের পাশাপাশি এবার দেখা যাচ্ছে কিছু নতুন লক্ষণও। এক সময় হাঁচি-কাশি বা জ্বরই ছিল প্রধান লক্ষণ, এখন অনেক ক্ষেত্রেই জ্বর না থাকলেও দীর্ঘস্থায়ী শুকনো কাশি, গলা ব্যথা এবং শরীর ভাঙার মতো উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হচ্ছেন রোগীরা।

পর্যবেক্ষণ বলছে, বর্তমান সময়ে যে উপসর্গগুলি বেশি দেখা যাচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে গলা ব্যথা, হাত-পা ব্যথা, শুকনো কাশি এবং অনেক ক্ষেত্রে জ্বরের উপস্থিতি না-ও থাকতে পারে। ফলে অনেকেই প্রথম দিকে বিষয়টি হালকাভাবে নিচ্ছেন, যা পরবর্তীতে সমস্যা বাড়াচ্ছে।

অন্যদিকে, প্রচলিত ভাইরাল সংক্রমণের উপসর্গ যেমন মাথা ব্যথা, গাঁটে ব্যথা, ত্বকে র‍্যাশ, পাতলা পায়খানা বা উচ্চ জ্বর—এসবও কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে কী করণীয়?

  • ভিড় এড়ানো সম্ভব না হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বিশেষ করে গণপরিবহণ, অফিস বা বাজারের মতো জায়গায় সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। একই পরিবারের একাধিক সদস্য বা কোনও এলাকায় একসঙ্গে অনেক মানুষের মধ্যে একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে সতর্ক হওয়া জরুরি।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যাবে না। ভাইরাল সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না, বরং শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাঁদের ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ নেই, তাঁরা প্রয়োজনে ওআরএস খেতে পারেন। জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল নেওয়া যেতে পারে, তবে মাত্রা সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
  • তবে যদি কাশি দীর্ঘস্থায়ী হয়, শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় বা শারীরিক অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে থাকে, তা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

সব ভাইরাল জ্বরই করোনা নয়। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকাই একমাত্র উপায়। একই সঙ্গে সংক্রমণ ছড়ানো রুখতে নিজের উপসর্গ থাকলে অন্যদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি। অবহেলা করলে তা বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই সতর্ক থাকা, নিয়ম মেনে চলা এবং নিজে সুরক্ষিত থেকে অন্যদেরও সুরক্ষিত রাখার পদ্ধতি অবলম্বন করা দরকার।

এক গানা হিট তো সব মামলা ফিট! উদিত নারায়ণকে মনে করালেন নাগপুরের প্রফুল

প্রথম ম্যাচেই সুপারহিট

১৯৮৮ সালে ভারতীয় সিনেমায় আমির খানের সেই ‘‘কয়ামত সে কয়ামত ত্ক’’ – ছবিতে গান করেছিলেন উদিত নারায়ণ। সেই সিনেমার গান হিট হতেই আর পিছন ফিরে তাকাননি উদিত। তিনি এখনও মনে করেন অভিষেকে সেই সাফল্য না পেলে তিনি আরও কয়েক বছর পিছিয়ে যেতেন। কথায় রয়েছে অভিষেক মঞ্চ যদি কারও ভাল হয় তাহলে তিনি আর পিছন ফিরে তাকান না।

আইপিএল ম্যাচে রাজস্থানের বিরুদ্ধে হায়দরাবাদের পেসার প্রফুল হিঙ্গের অভিষেক ম্যাচ স্মরণীয় হয়ে থাকল উপ্পল স্টেডিয়ামে। গত ১৮ বছরের আইপিএল ইতিহাসে যা দেখা যায়নি সেই খেলার প্রথম ওভারেই তিনটি উইকেট নিয়েছেন এই অনামী বোলার প্রফুল।

৩০ লাখ টাকায় হায়দরাবাদে

দুদিন আগে যার কোনও পরিচিতি ছিল না। তিনি রাতারাতি হয়ে গেছেন হিরো। দিদি ভাল একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। স্কুলের অনেকেই বলত প্রফুল্লকে, দিদির মতো হতে শেখো। কিন্তু সকালে উঠে প্রায় ভোর চারটার সময় মাঠে ছুটে যেতেন ওই উঠতি পেসার। যিনি ২০২৪ সালে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা শুরু করেছিলেন। বিদর্ভের হয়ে রঞ্জি ট্রফিতেও আলো কেড়েছিলেন। সেই সুবাদেই এবার আইপিএল নিলামে তাঁকে ৩০ লাখ টাকায় কিনে নেয় হায়দরাবাদ। সবাই যেখানে কোটি টাকা পেয়েছে সেখানে এই অনামী পেসারকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিল চারমিনার সিটি।

পাড়ায় খেপ খেলে বেড়াতেন প্রফূল

বরুণ অ্যারন এই মুহূর্তে হায়দরাবাদ দলের বোলিং কোচ। তিনিই তৈরি করেছেন নাগপুরের ছেলে প্রফুলকে। একটা সময় পাড়ার মাঠে খেপ খেলে বেড়াত। তারপর স্থানীয় কোচের পরামর্শে প্রফুল চেন্নাইয়ের এমআরএফ পেস ফাউন্ডেশনে ভর্তি হন। মাত্র দুই সপ্তাহের জন্য ব্রিসবেন গিয়েছিলেন পেস বোলিং এর পাঠ নিতে। ফিরে এসে আরও ধারালো হয়েছেন ২৫ বছরের পেসার। যাঁর বাবা সামান্য একজন সরকারি কর্মচারী। আর মা গৃহবধূ। কিন্তু ওই যে প্রথম রাতেই বাজিমাত করে দেশের নির্বাচকদের নজর কেড়ে নিলেন নবাগত পেসার।

আইপিএলে ইতিহাস

এর আগে কেউ এই কৃতিত্ব অর্জন করেননি। তিনি আউট করেছেন বিপক্ষের বিধ্বংসী ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশীকে, এছাড়াও ফিরেছেন রিয়ান পরাগ, ধ্রুব জুরেলরা।  

বঙ্গের ভোটে এসআইআর এর সুফল পাবে কারা ? ভোটের অঙ্কে কার পাল্লা ভারী ?

চায়ের আড্ডা থেকে রাজনৈতিক মহল—একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে: একই ছবি ফিরবে, না কি পাল্টাবে ক্ষমতার সমীকরণ?

‘যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা’—শাসক শিবিরের আত্মবিশ্বাসী স্লোগান। পাল্টা সুর বিরোধীদের, ‘মানুষ রায় দিয়ে ফেলেছেন, বাংলায় এবার বদল হবেই’। ২৩ ও ২৯ এপ্রিল—দু’দফার ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই চড়ছে বঙ্গ রাজনীতির উত্তাপ।

ময়দানে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির পাশাপাশি বামফ্রন্ট, কংগ্রেস, আইএসএফ এবং একাধিক আঞ্চলিক শক্তি। প্রত্যেকেই জয়ের দাবিতে সরব। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এসআইআর আবহে বাংলার এবারের লড়াইটা অনেকটা ক্রিকেট ম্যাচের মতো—শেষ বল না পড়া পর্যন্ত ফল ঘোষণা কঠিন। তাই আবেগ নয়, তথ্য-পরিসংখ্যানেই খোঁজা হচ্ছে শক্তি-দুর্বলতার হিসেব।

ছবি : Google

তৃণমূল কংগ্রেস: সংগঠন, প্রকল্প ও মহিলা ভোটব্যাঙ্ক
টানা 15 বছর তখতে থাকার সুবাদে বুথস্তর পর্যন্ত সংগঠনের বিস্তার তৃণমূলের সবচেয়ে বড় শক্তি। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, স্বাস্থ্যসাথীর মতো প্রকল্প সরাসরি প্রভাব ফেলেছে মহিলা ও গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে। ২০২১ সালের নির্বাচনে প্রায় ৪৮ শতাংশ ভোট পেয়ে ২০০-র বেশি আসন জয়ের রেকর্ড সেই শক্তিকেই তুলে ধরে।
তবে অস্বস্তির জায়গাও কম নয়। নিয়োগ দুর্নীতি, স্থানীয় স্তরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, আরজি কর ইস্যু—এই সবই ভোটের আগে চ্যালেঞ্জ বাড়াচ্ছে। দলীয় অন্দরে যদিও আত্মবিশ্বাস—কিছু আসন কমতে পারে, কিন্তু ‘তখত’ অটুটই থাকবে।

বিজেপি: বিরোধী শক্তির কেন্দ্রে, কিন্তু নেতৃত্ব প্রশ্নে ধোঁয়াশা
গতবার প্রায় ৩৮ শতাংশ ভোট পেয়ে ৭৭টি আসন—এই ফলেই বিজেপি রাজ্যের প্রধান বিরোধী শক্তি। উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল ও শহরতলির বেশ কিছু এলাকায় তাদের সংগঠন দৃঢ়। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হাইভোল্টেজ প্রচার, জাতীয় ইস্যুর জোর—সবই বিজেপির অস্ত্র।
তবে বাংলায় শক্তিশালী স্থানীয় মুখের অভাব, দলবদল রাজনীতি ও সংগঠনের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে। তবু বিজেপির দাবি স্পষ্ট—“মানুষ বদলের পক্ষেই রায় দিয়েছে”।

বামফ্রন্ট: আদর্শে উপস্থিতি, ফলে অনিশ্চয়তা
২০১১-র পর থেকে ক্ষমতার বাইরে থাকলেও বামেদের একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্ক রয়েছে। ছাত্র-যুব আন্দোলন, কর্মসংস্থান ইস্যুতে তাদের সক্রিয়তা নতুন করে নজর কেড়েছে।
কিন্তু সমস্যা অন্যত্র—ভোট শতাংশকে আসনে রূপান্তর করতে না পারা, সাংগঠনিক দুর্বলতা ও নেতৃত্বের অভাব। ফলে প্রভাব থাকলেও ফল কতটা মিলবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

কংগ্রেস: জোট ছেড়ে ‘একলা চলো’ পরীক্ষায়
একসময় তৃণমূলের সঙ্গী, পরে বামেদের সঙ্গে জোট—এবার সম্পূর্ণ একলা পথে কংগ্রেস। দলের দাবি, মালদহ ও মুর্শিদাবাদে তারা উল্লেখযোগ্য ফল করবে। তবে বাস্তবে এই আত্মবিশ্বাস কতটা ভোটে প্রতিফলিত হবে, সেটাই এখন দেখার।

ছোট দল, বড় সমীকরণ
আইএসএফের পাশাপাশি নতুন আঞ্চলিক দল হুমায়ুন কবীরের ‘আমরা জনতা উন্নয়ন পার্টি’-ও এবারের ভোটে নজর কেড়েছে। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় প্রভাব বিস্তারের দাবি তাদের । বিশ্লেষকদের মতে, সংখ্যালঘু ভোটে ভাগ হলে বহু আসনে ‘কাটাকাটি’ লড়াই তৈরি হতে পারে—যার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে শাসকদলের অঙ্কে।

এসআইআর: নীরব ফ্যাক্টর, বড় প্রভাব?
এবারের ভোটে অন্যতম আলোচনার বিষয় এসআইআর। ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক ভুয়ো নাম বাদ পড়েছে, আবার বহু নাম এখনও বিচারাধীন। এ নিয়ে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের মধ্যে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত—এই এসআইআর-ই শেষ পর্যন্ত ‘ম্যান অফ দ্য ম্যাচ’ হয়ে উঠতে পারে।

গ্রাফিক্স: দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস

ভোটের অঙ্ক: শেষ সমীকরণ কী বলছে?
গত কয়েকটি নির্বাচনের প্রবণতা বলছে, বাংলার লড়াই ক্রমশ দ্বিমুখী হলেও তৃতীয় শক্তির ভোট শতাংশ ফলাফল ঘুরিয়ে দিতে পারে।
গ্রামীণ বনাম শহুরে ভোট, মহিলা ভোটারদের অংশগ্রহণ, প্রথমবারের ভোটার—এই তিন ফ্যাক্টরই হতে পারে ‘ডিসাইডিং ফ্যাক্টর’।
তবে রাজনৈতিক দলগুলির সংগঠনের শক্তি, প্রকল্পের প্রভাব, বিরোধী মেরু, আঞ্চলিক সমীকরণ এবং এসআইআর—এই পাঁচ স্তম্ভে দাঁড়িয়ে এবারের ভোট। অঙ্ক যতই জটিল হোক, শেষ পর্যন্ত একটাই সত্য, বাংলার ভোটে শেষ কথা বলবে ভোটারই।

পাল্টাচ্ছে বদ্ধ ঘরে ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের আইডিয়া : ৬ বছরে পা দিল ‘কলকতা ওপেন এয়ার ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’ ( KOAFF)

নাকতলার খোলা আকাশের নিচে সিনেমার উৎসব। গত কয়েক বছর ধরে ঠিক এটাই যেন কলকাতার এক অন্যরকম বসন্তের গল্প। ২০২০ সালে যখন চারপাশটা সবেমাত্র লকডাউনের জড়তা কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছিল, সেই সময়েই একদল চলচ্চিত্র প্রেমী সিনেমাকে চার দেওয়ালের বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে সাধারণ মানুষের একদম সামনে নিয়ে আসার স্বপ্ন দেখেন। এভাবেই ‘ব্লু চক স্টুডিও’-র হাত ধরে শুরু হয় ‘কলকাতা ওপেন এয়ার ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’।

কোথায় হয় এই ফিল্ম ফেস্ট?

নাকতলার গীতাঞ্জলি মেট্রো স্টেশনের কাছেই সেকেন্ড স্কিম বা দ্বিতীয় পল্লীর খেলার মাঠ, এখানেই প্রতি বছর পয়লা বৈশাখের সময় সিনেমার আসর বসে। গাড়িতে এলে গড়িয়া-টালিগঞ্জ রুটের ‘আনন্দ আশ্রম বিদ্যাপীঠ’ স্টপে নেমেই দ্বিতীয় পল্লীর মাঠ।

কবে এবং কীভাবে শুরু?

এই ফিল্ম ফেস্টের সেই অর্থে কোনো জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনের ব্যাপার নেই। প্রতি বছর নির্দিষ্ট দিনে, নির্দিষ্ট সময়ে চালু হয়ে যায় সিনেমা দেখানো। উৎসবের প্রথম বছর থেকে একটি বৈচিত্র্যের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। তা হল, উদ্যোক্তারা চেয়েছিলেন দর্শকদের সামনে বিকল্প পথ খুলে দিতে— চাইলে হলের ভেতরে সিনেমা দেখুন, অথবা খোলা মাঠের খোলা স্ক্রিনে চোখ রেখে খোলা বাতাসে গা ভাসিয়ে দিন।

তিন বন্ধুর স্বপ্ন নিয়ে শুরু হওয়া এই সফর এখন বেশ বড় এক দলের প্রচেষ্টায় পরিণত হয়েছে। শমীক দাস,ঋতম, অরিত্র, প্রলয়, অবনীশ, বিশ্বজিৎ, চিরশ্রী, পারমিতা, প্রিয়াঙ্কা এবং প্লাবন ভট্টাচার্যের মতো বিভিন্ন পেশার মানুষ আজ শুধুই সিনেমার প্রতি ভালোবাসায় একজোট হয়েছেন।

KOAFF film fest 2026
কলকাতা ওপেন এয়ার ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল

এবারে যে ফিল্মগুলো দেখান হবে

সিনেমার তালিকায়ও থাকে চমক, আর্ট ফিল্ম থেকে কমার্শিয়াল, ভারতীয় থেকে আন্তর্জাতিক, সব ঘরানার স্বাদই এখানে পাওয়া যায়। চলতি বছর ১৫ এপ্রিল থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এই উৎসব। নাকতলার এই চলচ্চিত্র উৎসবে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে এক ঝাঁক কালজয়ী সিনেমার সমাহার থাকছে। যেমন:

নায়ক: সত্যজিৎ রায়

মেঘে ঢাকা তারা: কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়

আই অ্যাম কালাম: নীলা মাধব পণ্ডা

পদাতিক: সৃজিত মুখোপাধ্যায়

পিকু: সুজিত সরকার

বরফি: অনুরাগ বসু

আন্তর্জাতিক সিনেমাগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল:

ফলেন লিভস (Fallen Leaves): আকি কাউরিসমাকি (ফিনল্যান্ড)

টার্টলস ক্যান ফ্লাই (Turtles Can Fly): বাহমান ঘোবাদি (ইরান)

বাইসাইকেল থিভস (Bicycle Thieves): ভিত্তোরিও ডি সিকা (ইতালি)

ওয়াইল্ড স্ট্রবেরি (Wild Strawberries): ইংমার বার্গম্যান (সুইডেন)

দ্য সি ইনসাইড (The Sea Inside): আলেজান্দ্রো আমেনাবার (স্পেন)

পারফেক্ট ব্লু (Perfect Blue): সাতোশি কন (জাপান)

KOAFF 2026-এর ফিল্ম প্রদর্শনের সময়সূচি

তবে এই উৎসবের সবথেকে বড় বিশেষত্ব হলো শুরুর দিন থেকে আজও কোনো টিকিটের বালাই নেই। উদ্যোক্তাদের কথায়, “সবার জন্য সিনেমা দেখার সুযোগ সবসময়ই উন্মুক্ত থাকা উচিত”। বড় কোনো কর্পোরেট স্পনসরশিপের সাহায্য ছাড়াই টিকে আছে এই আয়োজন। মানুষের অনুদানের ওপর দাঁড়িয়েই পরিচালিত হয় এই উৎসব। তবে এ বছর নির্বাচনের সময় এবং ফেস্টের সময় ‘ক্ল্যাশ’ করায় তহবিল সংগ্রহে অনেকটাই প্রতিকূল পরিস্থিতি, জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। তবুও উদ্যমে কোথাও খামতি নেই কারো। আজ ষষ্ঠ বছরে দাঁড়িয়ে নাকতলার এই চলচ্চিত্র উৎসব প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, সিনেমা আসলে আমাদের সবার।