

'ডিম্বাস্ত্র'। ছবি - AI
১০ই আগস্ট, ২০২৬
"অন্ধজনে দেহ আলো, মৃতজনে দেহ প্রাণ"
কবিগুরু সেই কবে এই অমূল্য লাইনটি লিখে গিয়েছেন। যদিও বাঙালি যে তা থেকে শিক্ষা নেয়নি আজকের পশ্চিমবঙ্গের দিকে তাকালে সেটা বেশ ভালোই বোঝা যায়। এখানে স্বেচ্ছায় 'অন্ধ' হয়ে থাকাটা নতুন সামাজিক ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আপনি জানেন এই পাপ বা এই অন্যায়টা করলে আজ থেকে ৫ বছর, ১০ বছর, ১৫ বছর বা ২০ বছর পর সুদে-আসলে সেটা আপনার দিকেই ফিরে আসবে; তবু গাজোয়ারির হট্টমেলায় মেতে ত্যাঁদরামি করাটা আমাদের এক অতি পরিচিত স্বভাব দোষে পরিণত হয়েছে। তাই ডিম খাওয়ার বদলে কচি খোকাদের মত তা ছুঁড়ে, ফাটিয়ে ফটাসগিরি চলছে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে।
আজ আপনি শাসকদলের ঘনিষ্ঠ হয়ে বা কোনও দাদার শক্তিতে বলিয়ান হয়ে এই যে ডিম না খেয়ে ছোঁড়া প্র্যাকটিস করছেন, জানবেন এটা ততক্ষণই ভালো যতক্ষণ তার অভিমুখ আপনার দিকে ঘুরে না যাচ্ছে। ক্রিকেট বলের বদলে বাঙালির হাতে ডিমের এই জাগলিংয়ের ভবিষ্যৎ পরিণতি যে আরও ভয়াবহ হতে চলেছে সেটা প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য মহাশয় দিব্যি বুঝেছেন। তাই তিনি ডিমের অভিমুখ ঘুরে যেতে সময় লাগবে না বলে তাঁর দলের ডিম্বাস্ত্র-ধারীদের সতর্ক করে দিয়েছেন।
দেখুন একটা পরিষ্কার কথা বুঝতে হবে, আপনি স্রেফ বর্তমান ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে ডিম ছুঁড়ে মানুষজনকে খেয়ালখুশি মতো অপমান করে যাবেন আর আপনার ভবিষ্যৎ পুরো নিরাপদ-নিরুপদ্রব কাটবে, এটা প্রকৃতির লয়েই হবে না। আপনার আমদানি করা এই অসভ্যতামি সময় সুযোগ বুঝে আপনার উপরই প্রয়োগ হতে বাধ্য।
পশ্চিমবঙ্গের সদ্য ক্ষমতা হারানো শাসকদলের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় কম নয়। তাদের নিচুতলা থেকে একেবারে উপরতলা পর্যন্ত ভুরিভুরি অভিযোগে বিদ্ধ সকলে। এর জন্য আইন মেনে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় বিচার করে শাস্তি দিতে হবে। এখন তাদের কারওর কারওর বিরুদ্ধে সেই প্রক্রিয়ার শুরু হয়েছে, আবার অনেকের বিরুদ্ধেই তার নাম গন্ধ টুকুও নেই বলে অভিযোগ।
কিন্তু এই অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে ডিম ছুঁড়ে অপমান করার এই পন্থা জনরোষের নামে বাংলার সামগ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে ছেলেখেলায় পর্যবসিত করেছে। কিন্তু সবচেয়ে বিপদদের দিক হল, সিরিয়াস বিষয় যদি একবার ছেলে খেলার পরিণত হয় তবে সহজে তাকে শাসন করে ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনা যায় না।
এই গুরুত্বপূর্ণ কথাটি বাংলার শাসক-বিরোধী উভয় পক্ষের রাজনৈতিক নেতারা এবং তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা যত তাড়াতাড়ি বুঝবেন ততই ভালো। না হলে আগামী দিনে ডিম্বাস্ত্রের নামে 'জোর যার মুলক তার' মার্কা ছেলেখেলা বাড়তেই থাকবে। কখন যে তার মুখ পাড়ার কচি নেতার দিকে ঘুরে যাবে তা কে জানে!
এই অন্ধজনেরা দ্রুত আলোর দেখা পাক; সুস্থতা ফিরে আসুক বাংলার রাজনীতিতে।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
কলকাতার দক্ষিণ শহরতলি বজবজে জন্ম, সেখানকার নদীর জল হাওয়ায় বেড়ে ওঠা। পড়াশোনা অর্থনীতি ও ইতিহাস নিয়ে। দীর্ঘদিন নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘ নাট্য যাপনে গড়ে ওঠা। বাংলা সাহিত্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও অর্থসামাজিক বিষয় নিয়ে চর্চা এবং লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত। সাংবাদিকতার পাশাপাশি বাংলা ভাষা বিশেষজ্ঞ হিসাবে কাজ করেন। অবসরে চুটিয়ে আড্ডা, ভ্রমণ, অজানা-অচেনা খাবারের স্বাদ চেখে দেখা।
