horror story-reactions-effects-
২রা মে, ২০২৬
রাত বাড়লেই হেডফোন কানে, মোবাইলে ভৌতিক অডিও স্টোরি- অনেকের কাছেই এ যেন নিত্যদিনের অভ্যাস। অন্ধকার ঘরে শুয়ে অতিলৌকিক গল্পের রোমাঞ্চে ডুবে যাওয়ার সেই অনুভূতি নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস যদি নেশায় পরিণত হয়, তবে তার প্রভাব পড়তে পারে সরাসরি মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যে।
মনোবিদদের ব্যাখ্যা, নিয়মিত ভয়ঙ্কর গল্প শুনলে মস্তিষ্কে তৈরি হয় এক ধরনের কৃত্রিম ‘ভয়ের পরিবেশ’। বাস্তব ও কল্পনার সীমারেখা ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে যেতে পারে। ফলে সাধারণ শব্দ, ছায়া কিংবা নিঃশব্দ পরিবেশও অস্বাভাবিক বলে মনে হয়। এর জেরে তৈরি হয় অকারণ আতঙ্ক ও উদ্বেগ।
সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে ঘুমের ওপর। রাতের পর রাত ভয়ের গল্প শুনতে শুনতে মস্তিষ্ক এক ধরনের উত্তেজিত অবস্থায় থাকে, যা ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে। মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া, দুঃস্বপ্ন দেখা বা অস্থিরতা—এসব লক্ষণ ক্রমশ বাড়তে পারে। দীর্ঘমেয়াদে তা অনিদ্রার দিকে ঠেলে দেয়, যা শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যাঁদের স্নায়ু তুলনামূলকভাবে সংবেদনশীল, তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। অতিরিক্ত ভয় ও উত্তেজনা স্নায়ুতন্ত্রে চাপ সৃষ্টি করে। বুক ধড়ফড়, অকারণ কাঁপুনি বা মানসিক অবসাদ—এসব উপসর্গ দেখা দেওয়াও অস্বাভাবিক নয়।
এছাড়াও, ভৌতিক গল্পের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি মানুষকে সন্দেহপ্রবণ করে তুলতে পারে। অতিপ্রাকৃত শক্তির প্রতি অযৌক্তিক বিশ্বাস বাড়তে থাকলে তা সামাজিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলে। বাস্তবের চেয়ে অলৌকিক ব্যাখ্যার ওপর নির্ভরতা বাড়লে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়ে।
মনোবিদরা আরও বলছেন, কোনও কিছু বারবার শুনতে শুনতে তা অবচেতনে ‘স্বাভাবিক সত্য’ বলে গ্রহণ করতে শুরু করে মস্তিষ্ক। ফলে গল্প না শুনলে ঘুম না আসার মতো নির্ভরতা তৈরি হয়, যা এক ধরনের মানসিক পরাধীনতার লক্ষণ।
তবে সবকিছুরই রয়েছে মাত্রা। মাঝেমধ্যে ভৌতিক গল্প শুনে রোমাঞ্চ খোঁজা ক্ষতিকর নয়। কিন্তু সেটাই যদি প্রতিদিনের অভ্যাস হয়ে ওঠে, তখন সতর্ক হওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ঘুমের আগে হালকা সঙ্গীত, বই পড়া বা মেডিটেশনের মতো অভ্যাস গড়ে তুললে মনের শান্তি বজায় থাকে।
রোমাঞ্চের খোঁজে ভয়কে সঙ্গী করা মন্দ নয়, কিন্তু সেই ভয় যেন জীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণ না নেয়—সচেতন থাকাই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।