mustafijur-cpim-wins-01
৪ঠা মে, ২০২৬
এই ‘এক’ কি আগামী দিনে সংখ্যায় বাড়বে, নাকি আবারও প্রান্তিক হয়ে পড়বে—সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে আলিমুদ্দিন থেকে গ্রামবাংলার আড্ডায়
কলকাতা, ৪ মে: দীর্ঘ সাত বছরের রাজনৈতিক অন্ধকারের শেষে একফোঁটা আলো। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ফের ফিরল সিপিএম—তবে সংখ্যায় মাত্র এক। মুর্শিদাবাদের ডোমকল থেকে জিতে লাল শিবিরের ‘শূন্য’-র গেরো কাটালেন মুস্তাফিজুর রহমান রানা। প্রতীকী হলেও এই জয় বাম রাজনীতির কাছে বড় স্বস্তির।
২০২১ সালে প্রথমবারের মতো বামশূন্য হয়েছিল রাজ্য বিধানসভা। তার আগে ২০১৯ এবং পরে ২০২৪—দু’টি লোকসভা নির্বাচনেও খালি হাতেই ফিরতে হয়েছিল সিপিএমকে। ফলে টানা সাত বছর ধরে ‘শূন্য’ শব্দটাই যেন লেগে গিয়েছিল দলটির সঙ্গে। ২০২৬-এর ভোটে সেই অচলাবস্থা ভাঙল—একটি মাত্র আসনেই হলেও।
ডোমকল কেন্দ্রটি ঐতিহাসিকভাবে বামেদের শক্ত ঘাঁটি। এক সময় প্রাক্তন মন্ত্রী আনিসুর রহমানের হাত ধরে এই আসনে লাল পতাকা উড়েছে বারবার। ২০১১-র পর সেই দখল হারালেও, এক দশক পর ফের ঘুরে দাঁড়াল সিপিএম। তৃণমূলের প্রার্থী, প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে হারিয়ে জয়ের মুকুট তুলে নিলেন রানা।
এই জয়ের নেপথ্যে কৌশলগত পরিকল্পনাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। মুর্শিদাবাদের কয়েকটি আসনকে টার্গেট করেই শূন্যের গেরো কাটতে চেয়েছিল সিপিএম নেতৃত্ব। রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সেই পরিকল্পনা আংশিক সফল হলেও সামগ্রিক চিত্রে বামেদের দুর্বলতাই স্পষ্ট। এখন বড় চ্যালেঞ্জ—এই একমাত্র বিধায়ককে ধরে রাখা এবং সংগঠনকে নতুন করে গড়ে তোলা।
ফলাফল প্রকাশের পর সেলিম সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “তৃণমূলের সীমাহীন দুর্নীতি ও অপশাসনের বিরুদ্ধেই মানুষ রায় দিয়েছেন। কিন্তু সেই ক্ষোভের ফায়দা তুলেছে বিজেপি।” নির্বাচন প্রক্রিয়ায় এসআইআর, কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা এবং ‘ভীতির আবহাওয়া’ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
একই সুর শোনা গিয়েছে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর গলায়। তাঁর অভিযোগ, “তৃণমূলই বাংলায় বিজেপিকে প্রতিষ্ঠা করেছে।” পাশাপাশি ‘কাটমানি’ ও ‘তোলাবাজি’র রাজনীতির বিরুদ্ধে এবং বিজেপির উত্থানের মোকাবিলায় বৃহত্তর গণআন্দোলনের ডাক দিয়েছেন তিনি। ফল ঘোষণার আবহেই যাদবপুরে লেনিন মূর্তি ‘অবমাননা’র অভিযোগ নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। সিপিএমের দাবি, বিজেপি সমর্থকেরা মূর্তিতে গেরুয়া আবির মেখে অপমান করার চেষ্টা করে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাম নেতারা প্রতিবাদে সরব হন, পরিস্থিতি ঘিরে বাড়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
সব মিলিয়ে, একদিকে বিজেপির উত্থান, অন্যদিকে তৃণমূলের ধাক্কা—এই দ্বিমুখী চাপের মধ্যেও ডোমকলের জয় সিপিএমের কাছে নিঃসন্দেহে মনোবল বাড়ানোর। তবে বাস্তব বলছে, সামনে পথ এখনও দীর্ঘ ও কঠিন। এই ‘এক’ কি আগামী দিনে সংখ্যায় বাড়বে, নাকি আবারও প্রান্তিক হয়ে পড়বে—সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে আলিমুদ্দিন থেকে গ্রামবাংলার আড্ডায়।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।