thyroid-dos-and-donts
১২ই মে, ২০২৬
সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগছে? হঠাৎ ওজন বেড়ে যাচ্ছে বা অকারণে কমে যাচ্ছে? অতিরিক্ত ঘাম, দুশ্চিন্তা কিংবা মন খারাপ—এ সবই কি শুধুই ব্যস্ত জীবনের প্রভাব? এই উপসর্গগুলির নেপথ্যে লুকিয়ে থাকতে পারে থাইরয়েডের সমস্যা।
বর্তমানে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বহু মানুষ থাইরয়েডজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। সময়মতো রোগ ধরা না পড়লে শরীরের নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই সচেতন হওয়া জরুরি।
থাইরয়েড কী?
থাইরয়েড হল এক ধরনের হরমোন গ্রন্থি, যা গলার কাছে শ্বাসনালীর সামনে অবস্থিত। এই গ্রন্থি থেকে মূলত T3 ও T4 হরমোন ক্ষরিত হয়, যা শরীরের বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
শুধু তাই নয়, শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও থাইরয়েড হরমোন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এছাড়া হার্ট রেট নিয়ন্ত্রণ, প্রোটিন সংশ্লেষ ও কার্বোহাইড্রেটের বিপাকেও এই হরমোনের ভূমিকা রয়েছে। পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত TSH হরমোন থাইরয়েড হরমোনের নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
স্বাভাবিক মাত্রা কত?
T3-এর সাধারণ মাত্রা ২.৩-৪.১ pg/ml এবং T4-এর সাধারণ মাত্রা ০.৮-১.৮ ng/dl
থাইরয়েডের প্রধান দুই সমস্যা
১) হাইপারথাইরয়েডিজম
যখন শরীরে অতিরিক্ত পরিমাণে থাইরয়েড হরমোন তৈরি হয়, তখন তাকে হাইপারথাইরয়েডিজম বলা হয়।
লক্ষণ
দ্রুত ওজন কমে যাওয়া
অতিরিক্ত ঘাম
বারবার খিদে পাওয়া
উদ্বেগ ও অস্থিরতা
হার্ট রেট বেড়ে যাওয়া
কারণ
থাইরয়েড গ্রন্থির সংক্রমণ
গ্রেভস ডিজিজ
টক্সিক নডিউলার গয়টার
অতিরিক্ত আয়োডিনযুক্ত লবণ গ্রহণ
কীভাবে ধরা পড়ে?
রক্ত পরীক্ষায় Free T3 ও Free T4-এর মাত্রা বেড়ে যায়, আর TSH-এর মাত্রা কমে যায়।
চিকিৎসা
রেডিও অ্যাকটিভ আয়োডিন থেরাপি
অ্যান্টি-থাইরয়েড ওষুধ
প্রয়োজন হলে অস্ত্রোপচার
২) হাইপোথাইরয়েডিজম
যখন থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে হরমোন ক্ষরিত হয় না, তখন তাকে হাইপোথাইরয়েডিজম বলা হয়।
লক্ষণ
সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগা
ওজন বেড়ে যাওয়া
বেশি শীত করা
মন খারাপ বা অবসাদ
কারণ
হাশিমোটোজ ডিজিজ
আয়োডিনের অভাব
রেডিয়েশন থেরাপি
থাইরয়েড অস্ত্রোপচার
থাইরয়েডের সংক্রমণ
কীভাবে বোঝা যাবে?
এই ক্ষেত্রে Free T3 ও Free T4-এর মাত্রা কম থাকে এবং TSH-এর মাত্রা বেড়ে যায়।
চিকিৎসা
নিয়মিত Levothyroxine ট্যাবলেট সেবনের মাধ্যমে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
থাইরয়েডের উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ, সময়মতো চিকিৎসা শুরু হলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করা যায়।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
কলকাতায় জন্ম। উত্তর কলকাতার হোলি চাইল্ড ইনস্টিটিউট, বিডন স্ট্রীট স্কুলে প্রাথমিক পাঠ। এরপর ডাক্তারির পড়াশোনায় প্রবেশ। যাদবপুরে কে. পি. সি মেডিক্যাল কলেজ থেকে MBBS, তারপর পি. জি হাসপাতাল থেকে MD শেষ হতে হতে পেরিয়েছে অনেক গুলো বছর। লেখার ইচ্ছে ছোটবেলা থেকে। ভ্রমণ ভালোবাসেন। পেশা আর লেখা দুটোই উজ্জীবিত রাখে তাঁকে।