১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬

info@thefourthaxis.in
header-ad
৩০০  বছর লাহোরের পরিবারের দখলে বাংলা! শেষটা ভোটে হার দিয়ে

বর্ধমানের রাজা। ছবি - AI

৩০০ বছর লাহোরের পরিবারের দখলে বাংলা! শেষটা ভোটে হার দিয়ে

মূল বিষয়

গোড়াতেই একটা ভুল ধারণা ভেঙে দেওয়া যাক। বর্ধমানের রাজারা মোটেও বাংলার ভূমিপুত্র ছিলেন না। অবিভক্ত ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের লাহোর এলাকার কোটলি মহল্লা থেকে তাঁরা এখানে এসেছিলেন। তারপরের বাকি অধ্যায়টা বণিকের বেশে এসে শাসক হওয়ার।

বর্ধমান রাজের ভিনদেশি শিকড়ের গল্প

বর্ধমান রাজ পরিবারকে বাংলার ইতিহাসের অংশ হিসেবে মনে করা হলেও, এই বংশের রক্তে বাংলার মাটি বা আদি কোনও জনপদের শিকড় ছিল না। পুরোটাই বহিরাগতের রাজদণ্ড লাভের কাহিনী।

সঙ্গম রায়ের আগমন:

এই রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন পাঞ্জাবের লাহোরের কোটলি মহল্লার কাপুর গোত্রের এক ক্ষত্রিয় পরিবারের সদস্য সঙ্গম রায় কাপুর। তিনি পুরী থেকে তীর্থ করে লাহোরে ফেরার পথে বর্তমান পূর্ব বর্ধমান জেলার বৈকুণ্ঠপুর গ্রামে এসে উপস্থিত হন। সেখানকার পরিবেশ, যাতায়াত ব্যবস্থা এবং ব্যবসার সুযোগ দেখে আর নিজের দেশে ফিরে যাননি। এখানেই পাকাপাকিভাবে থিতু হন।

সাহোবি কারবার ও কোতোয়ালি:

প্রথমে সাধারণ ব্যবসা ও অর্থলগ্নির কারবার বা সাহোবি কারবার দিয়ে শুরু করলেও, সঙ্গমের নাতি আবু রায় ১৬৫৭ সালে মুঘল ফৌজদারের অধীনে বর্ধমানের রেখাবি বাজারের কোতোয়াল ও চৌধুরী নিযুক্ত হন। এর মধ্য দিয়েই মুঘলদের সঙ্গে এই বংশের লেনদেন শুরু হয়। মুঘল প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে এই নিবিড় সংযোগই তাদের ভিনদেশি শিকড় সত্ত্বেও বাংলার মাটিতে একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারি করে তোলে।

প্রায় তিন শতাব্দী জমিদারি বা রাজত্ব করেছে বর্ধমান রাজ পরিবার। এই দীর্ঘ সময়ে তারা যেমন নানানভাবে বিতর্কিত হয়ে উঠেছে, তেমনই আরও ক্ষমতা লাভের লিপসায় স্থানীয় অন্য শাসকদের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়েছে। আবার পরিবারের মধ্যেই বহু অন্তর্ঘাত মূলক ঘটনা ঘটেছে।

আরও পড়ুন
দেবতাকে ‘কিডন্যাপ’! বাংলায় অভাবনীয় রাজনীতি
স্ত্রীদের নাম টুকে রাখত খাতায়! বহুবিবাহের করুন পরিণতি বাংলায়
পশ্চিমবঙ্গে অনলাইনে জনগণনা শুরু

ব্রিটিশ তোষণ এবং মানুষের থেকে ক্রমবর্ধমান দূরত্ব

মুঘল আমলের পর যখন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উত্থান ঘটে, তখন এই রাজ পরিবার মুহূর্তের মধ্যে নিজেদের অবস্থান বদল করে নতুন 'প্রভু'-দের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে ওঠে। কতটা যেন আজকের রাজনীতিবিদদের মতো!

ব্রিটিশদের অত্যন্ত অনুগত মিত্র হিসেবে তারা 'মহারাজাধিরাজ' উপাধি লাভ করে। এর ফলে স্থানীয় অন্য শাসকদের তুলনায় তাদের গুরুত্ব অনেক বেশি বেড়ে গিয়েছিল। এর প্রতিদান স্বরূপ বর্ধমানের রাজা এবং রাজ পরিবার ব্রিটিশদের ঔপনিবেশিক স্বার্থ রক্ষা করতে সর্বদা তৎপর ছিল।

১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার ঠিক প্রাক্কালে যখন অখণ্ড বাংলা দুই দেশে ভেঙে যাওয়া নিয়ে বা দ্বিতীয় বঙ্গভঙ্গ নিয়ে বিতর্ক চরমে উঠেছে, ঠিক সেই সময় বর্ধমান মহারাজা উদয় চাঁদ মাহতাব অমুসলিম ব্লকের এক প্রকার নেতৃত্ব দিয়ে বঙ্গভঙ্গের পক্ষে অবস্থান নেন।

সাধারণ বঙ্গবাসীর আবেগ ও ঐক্যের বিরুদ্ধে গিয়ে নেওয়া এই রাজনৈতিক অবস্থান সেদিন বাংলার মানুষ ভালোভাবে নেয়নি। এই ঘটনা প্রমাণ করে প্রায় তিন শতক এই পরিবার শাসক হিসেবে থাকলেও সাধারণ বাঙালি মন বুঝতে এরা পুরোপুরি ব্যর্থ ছিল।

প্রথম লোকসভার নির্বাচনে রাজার লজ্জার পরাজয়

যে সাম্রাজ্য একসময় মুঘল ও ব্রিটিশ শক্তির জোরে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছিল, ১৯৫২ সালের স্বাধীন ভারতের প্রথম গণতান্ত্রিক সাধারণ নির্বাচনে এসে তার মোক্ষম পতন ঘটে। এক কথা বলা যায় মুখে চুনকালি লেগে যায়।

১৯৫২ সালের লোকসভা নির্বাচনে বর্ধমান কেন্দ্র থেকে শেষ মহারাজা উদয় চাঁদ মাহতাব প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কিন্তু সাধারণ প্রজা ও খেটে খাওয়া মানুষের রায় সম্পূর্ণ তাঁর বিরুদ্ধে যায়। এমনকি জাতীয় কংগ্রেসের প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও তিনি এই শোচনীয় পরাজয় এড়াতে পারেননি। প্রখ্যাত স্বাধীনতা সংগ্রামী ও কমিউনিস্ট নেতা বিনয় চৌধুরীর কাছে গোহারান হেরে যান বর্ধমানের রাজা।

এই ঘটনা প্রমাণ করে বর্ধমান রাজ পরিবার মানুষের থেকে ঠিক কতটা বিচ্ছিন্ন হয়েছিল।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য